রাশিয়াতে কার্লিয়ান ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। কার্লিয়ান ফটোগ্রাফি বিজ্ঞানের এক নতুন আবিষ্কার। এর মাধ্যমে মানবদেহ এমনকি গাছপালার দেহ থেকে আগত সূক্ষ্ম শক্তির চিত্রগ্রহণ করা যায়। এর সাহায্যে তারা একটি গাছের ছবি তোলে। তারপর গাছের পাতার কিছু অংশ কেটে দেবার পর আবারো ছবি তোলা হলেও পূর্ণ পাতাটিই দেখা যায়। এটি মানুষের মনের বিভিন্ন অবস্থার ছবিও তুলতে পারে। যদি ক্রোধান্বিত অবস্থায় তোলা হয়, তবে দেহের চারপাশে লাল রংয়ের আভা দেখতে পাওয়া যায়। যদি সে ধ্যানরত অবস্থায় থাকে, তবে সেটা সবুজ রং ধারণ করে। এর বিভিন্ন রং দেখে প্যারাসাইকোলজিস্টেরা মানসিক অবস্থা বুঝতে পারে।
রাশিয়ায় এ ব্যাপারে একটা পরীক্ষা হয়েছিল। একজন মৃত্যুপথযাত্রী লোককে নিয়ে ECG ও সিটিস্ক্যান করতে থাকে এবং কার্লিয়ান চিত্র তুলতে থাকে। এর মাধ্যমে তার শরীরের চারপাশে একটা আভা দেখতে পাওয়া গেল। সেখানে অনেক বৈজ্ঞানিক উপস্থিত ছিলেন। যন্ত্রপাতির সাহায্যে দেখা গেল যে, তার হৃদস্পন্দন ও মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। মানে সে মৃত কিন্তু রঙিন আভা সেখানে দেখা যাচ্ছিল। পাঁচ সেকেন্ড পর ওটা একটু উপরে উঠে বার সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং তারপর চলে গেল।
ভগবদগীতা অনুযায়ী আমাদের স্থুল এবং সূক্ষ্ম দু’টি দেহ রয়েছে। আত্মা সূক্ষ্ম দেহটির সাথে যুক্ত। স্থুল দেহের মৃত্যুর পর সেটা সূক্ষ্ম দেহের সাথে পরবর্তী জীবনে চলে যায়, যা প্রকৃতির আইন দ্বারা নির্দিষ্ট। রাশিয়ান পরীক্ষাটি বৈদিক সিদ্ধান্ত প্রমাণে যথেষ্ট।
হরিনাম জপ, ভগবৎ সেবা ও বিভিন্ন কর্ম সম্পাদন করার সময় ধ্যানের মাধ্যমে যে যোগ সাধনা করা হয়, সেটি একটি উন্নত যোগপন্থা। বিভিন্ন রকমের যোগপন্থা রয়েছে- জ্ঞানযোগ, ধ্যানযোগ, অষ্টাঙ্গযোগ প্রভৃতি কিন্তু কৃষ্ণভাবনামৃতে আমরা বুদ্ধিযোগ বা ভক্তিযোগের অনুশীলন করি।
জড় উপাধি ত্যাগ করুনঃ
কিছু বুদ্ধিজীবী ধর্মের বিরোধিতা করে। করাণ হিসেবে তারা বলে, ধর্ম পৃথিবীতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি করছে। খ্রিষ্টানদের দিকে তাকান, তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করছে। প্রোটেস্টেন্টরা ক্যাথলিকদের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে এবং হিন্দুরা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করছে। তাই ধর্মই মানুষকে ভ্রমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই শ্লোকে আমারা স্পষ্ট দেখতে পাব যে, উপাধিই এই প্রথিবীকে বিভক্ত করছে। উপাধিত পৃথিবীর মানষকে পক্ষপাতদুষ্ট করছে। উপাধিই বিশ্ষে সব সমস্যার সৃষ্টি করছে। কেবল ভগবৎ ভাবনার মাধ্যমে, আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে এবং শ্রীমদ্ভাগদগীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতের বিজ্ঞান উপলব্ধির দ্বারা আমরা উপাধিমুক্ত হতে পারি। অহম ব্রহ্মাস্মি, আমরা দেহ নই। আমরা চিন্ময় জগৎ থেকে এসেছি, জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্যদাস। আমরা কৃষ্ণের নিত্য সেবক। আমরা এই দেহ নই।
পাশ্চাত্য দেশে গিয়ে শ্রীল প্রভুপাদ প্রচার করেছেন, তোমরা আমেরিকান নও, তোমরা চীনা নও, তোমরা রাশিয়ান নও, তোমরা ভারতীয়ও নও। আমরা এই দেহ নই। আমরা শ্রীকৃষ্ণের সেবক। আমরা শুদ্ধ চিন্ময় আত্মা। এটিই একক বিশ্বসৃষ্টির উপায়। বেদে বলা হয়েছে, ব্রহ্মাণ্ড পরিবার বাসুদেব কুটুম্বকম বাসুদেবের অধীনে এক সার্বজনীন পরিবার। কুটুম্বকম অর্থ পরিবার। আমরা সকলেই ভাই-ভাই। আমরা পরমেশ্বর ভগবান কৃষ্ণ বা ভগবান বাসুদেবের অধীন এক পরিবার। এটাই হচ্ছে বিশ্ব চেতনা বা বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টর উপায়, যার কথা মানুষ বলে।
সাধু, শাস্ত্র ও গুরুদেবের তত্ত্বাবধানে ওপরে উঠুনঃ
আমার কিছু শিষ্য বিমান সংস্থার পাইলট অথবা বড় বিমান সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার এবং তারা বোয়িং-৭৪৭ এর মতো আরও অনেক বিমান চালায়। তারা আমাকে বলেছে যে, বিমান চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চোখ বন্ধ করে আকাশে বিমান ওড়ানো শিখতে হবে। আপনাকে শুধু যন্ত্রের সাহায্যে উড়তে হবে, কারণ আপনার ইন্দ্রিয় আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। এত উচ্চতায় এবং চাপের বিভিন্নতার কারণে আপনার মনে হবে, আপনি উপরে উঠছেন কিন্তু আসলে আপনি নিচে নামছেন। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো ভূপৃষ্ঠে হেঁটে চলতে অভ্যস্ত, সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৩৯০০০ ফুট বা ৮০০০ মিটার বা এরকম যেকোনো উচ্চতায় ওড়ার জন্য নয়। আর এ কারণে আপনি ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করতে পারেন না। কিন্তু যন্ত্র আপনাকে ভুল তথ্য দেবে না। যদি যন্ত্র আপনাকে বলে, আপনি উপরে যাচ্ছেন তাহলে আপনি উপরে যাচ্ছেন। আপনার কান যাই শুনুক, আপনার ইন্দ্রিয়ের ভারসাম্য আপনাকে যাই বলুক না কেন, আপনাকে যন্ত্রের নিদের্শনা দেখেই চলতে হবে। ঠিক একই ভাবে পারমার্থিক জীবনেও আমাদের শাস্ত্র অনুসরণ করে চলতে হবে। আমাদের আবেগপ্রবণতা আমাদের বলতে পারে, ওহ এটা খুব ভালো জিনিস, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের শাস্ত্র অনুসরণ করতে হবে। যন্ত্রের মাধ্যমে যেমন আমাদের উড়তে হয়, তেমনি সাধু, শাস্ত্র ও গুরুর নির্দেশনায় নিজেকে পরিচালিত করতে হবে। এই জগতে ভালো ও মন্দ উভয়ই আছে কিন্তু জড় ভালো আর জড় মন্দ সবই জড়। উচ্চতর এক পারমার্থিক বাস্তবতাও রয়েছে এবং তাই আমাদের জানা প্রয়োজন।
No Comment! Be the first one.