আপনি যদি কৃষ্ণভাবনামৃতকে আপনার জীবনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন, যেখানেই আপনি কাজ করেন বা না করেন, আপনি আপনার জীবনে অনেক উদ্দীপনা ও পরিতৃপ্তি খুঁজে পাবেন। নতুবা জীবন একেবারেই শুষ্ক হবে; সুখ-দুঃখ, উত্থান ও পতন, আনন্দ ও বেদনায় নিমজ্জিত। একটি বিষয়ে আমি খুব উদ্বিগ্ন। ভারতবর্ষে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা। কেননা তারা জীবনকে অর্থহীন মনে করে আত্মহত্যা করে। যদি তারা বেঁচে থাকত, তারা কত কিছু করতে পারত ! মানুষকে ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য করতে পারত, আরও কত উপকার করতে পারত। আত্মহত্যার চিন্তার সাথে কিছু লোকের যোগসূত্র থাকতে পারে। আমরা কীভাবে তাদের সাহায্য করতে পারি ? কৃষ্ণভাবনামৃতে এসে আমরা জেনেছি যে, আমরা মৃত্যু বরণ করবো না কিন্তু আমরা যদি আত্মহত্যা করি তাহলে আমরা আমাদের দেহকে হারাব এবং সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করে ভূত হয়ে চারদিকে ঘুরে ঘুরে করা চেষ্টা করে, তাদের শরীরে ভর করে। আমি পড়েছি অস্ট্রেলিয়ায় বছরে ১১ হাজার ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। ভারতে এর সংখ্যা কত তা জানি না কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, এর সংখ্যা আরও বেশি হবে, যেহেতু এর জনসংখ্যা বেশি। অনেক লোক হতাশাগস্ত হয়ে পড়ছে। তারা জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানে না। কৃষ্ণভাবনামৃতের সামন্য অনুশীলনও তাদের রক্ষা করতে পারে। শ্রীমদ্ভগব্গীতায় বলা হয়েছে- স্বল্পমপ্যস্য ধর্মস্য ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ। সল্প পরিমাণ পারমার্থিক অনুষ্ঠান যেমন, একটি দামোদর প্রদীপ নিবেদন করে আপনি আপনার জীবনের অনেক সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। মূলত দামোদর মাহাত্ম্যের একটি হচ্ছে, যে ব্যক্তি দামোদর প্রদীপ নিবেদন করেন, তিনি সকল বিপদ থেকে রক্ষা পান।
দুঃখ-দুর্দশা অতিক্রমের রহস্য
এখানকার মানুষ অসুখী হবে, সেই ভাবেই পৃথিবীর নকশা করা হয়েছে। ঠিক যদি ক্যাসিনোতে যান, তা এমনভাবে নকশা করা যে, সর্বদা ক্যাসিনোই জিতবে এবং আপনি হারবেন। ক্ষেত্র বিশেষে কেউ জিততে পারে। তবে ক্যাসিনোই প্রধানত জয়ী হয়। এ কারণেই তারা তা ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। এই পৃথিবীকে বলা হয় দুঃখালয়ম্ এটি প্রকৃতপক্ষে ভোগান্তির স্থান কিন্তু প্রত্যেকেই আমরা সুখী হতে চাই। মূলত আমরা সুখী নই। কিন্তু মূল রহস্য হচ্ছে, আপনি যদি পরমেশ্বর ভগবানের সেবা করেন, তাহলে সর্বদা আপনি সুখী হতে পারবেন। কারণ ভগবান হচ্ছেন এই জড়-জগতের নিয়ম অতিক্রম করে আপ্রাকৃত জগতে উত্তীর্ণ হবেন। আমরা দুঃখ পাচ্ছি এর প্রধান কারণ, আমরা অপরাধ করছি। আমরা অপরের ক্ষতিসাধন করছি, নিজেদেরও ক্ষতিসাধন করছি এবং তাই আমরা এর প্রতিক্রিয়া ভোগ করছি। কিন্তু যখন ভগবানের সেবা করব তখন আমরা পাপমুক্ত হব এবং সুখী হব। এটাই রহস্য।
কর্মের ছয়টি স্তর
বেদ অনুসারে, কর্মের ফল খুবই জটিল। এতই জটিল যে, পরবর্তীতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তাও ধারণার অতীত। কারণ, একজনের কর্ম শুধু তার এই জীবনের ওপর নির্ভর করে না; তার অতীতের অন্তত একশ জন্মের কর্মফলের ওপর নির্ভর করে। কর্মের ছয়টি বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এটি ভূমি থেকে একটি গাছ বড় হওয়ার মতো।
১) যেসব কর্মের ফল প্রকাশ পায়নি অর্থাৎ বীজের পূর্ববর্তী অবস্থা।
২) তারপর বীজ।
৩) তারপর অঙ্কুরোদগমের শুরু।
৪) তারপর অঙ্কুরপ্রাপ্ত হওয়া।
৫) তারপর বর্ধিত হওয়া।
৬) পূর্ণতাপ্রাপ্ত হওয়া। গাছের ক্ষেত্রে- মৃত্যুর সাথে সাথে কর্মফলেরও বিনাশ সাধিত হয়। ভারতবর্ষের একটি ঘটনা- পাশ্চাত্য দেশ থেকে কোনো একজন লোক ভেজাল সরষের তেল ভারতবর্ষে পাঠিয়েছিল। খুব দুগন্ধযুক্ত। এটি ব্যবহারের ফলে অনেক লোক অসুস্থ হয়ে পড়ে। যেসব লোক এটি আমদানি-রপ্তানির কাজে নিয়োজিত ছিল, তারা এটিকে খারাপ পলে জানত এবং কাস্টমসের লোকদের ঘুষ দিয়েছিল কিন্তু যেহেতু ঐ তেল ছিল ভেজালযুক্ত, তাই কিছুদিন পর কিছু লোক অন্ধ হয়ে যায় এবং কিছু লোক পেটের রোগে আক্রান্ত হয়। সেই লোকদের শনাক্ত কারা পর কারাগারে বন্দী করা হয়। এভাবে তারা কার্মের ফল থেকে মুক্ত হলো কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তি ধরা পড়ে না। যেসব লোক ভেজালযুক্ত তেলের দ্বারা ক্যান্সারে আক্রান্ত অথবা অন্ধ হয়ে গেছে, তার পরিণামে দোষী ব্যক্তিকে হয়তো এক জন্ম, দশ জন্ম অথবা পঁচিশ জন্ম পর ফল ভোগ করতে হবে। তখন সে দেখবে, হঠাৎ করে এইডস্ অথবা কোনো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তখন সে এর পিছনে কোন কারণ খুঁজে পাবে না।
No Comment! Be the first one.