Etupuja-ইতুপূজা
এক গ্রামে ছিল এক ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী ।
বহুকষ্টে দিন তার যায় ভিক্ষা করে ।।
উমনো ঝুমনো তাদের দুই মেয়ে ছিল ।
বামুনের পিঠে খেতে মনে সাধ হলো ।।
অতি কষ্টে বামুন পিঠের যোগাড় করে ।
সন্ধ্যার সময়ে আনি দিল ব্রাহ্মনীরে ।।
রত্রিতে ব্রাহ্মণী পিঠে করিতে লাগিল ।
ঘরের পশ্চাতে বসি বামুন গুণিতে লাগিল। ।
কিছুক্ষণ পরে বামুন বসিল খেতে ।
ব্রাহ্মণী লাগিল পিঠে পরিবেশন করিতে ।।
দুইখানি পিঠে কম হইতে দেখিয়া ।
রাগেতে বামুন যেন উঠিল জ্বলিয়া ।।
ব্রাহ্মণী সভয়ে তখন বলে বামুনেরে ।
পিঠে দুটো দিছি আমি দুই কন্যারে ।।
একদা ব্রাহ্মণীরে দ্বিজ লাগিল বলিতে ।
কন্যাদ্বয়ে লয়ে যাব পিসীর বাড়িতে ।।
শুনিয়া ব্রাহ্মণী খুব চিন্তায় পড়িল ।
স্বামীর উপরে কিছু বলিতে না পারিল ।।
কন্যাদ্বয়ে লয়ে দ্বিজ পথ বাহি যায় ।
হাঁটিতে হাঁটিতে শেষে দুপুর গড়ায় ।।
কন্যাদ্বয় কাতর হৈল ক্ষুধা পিপাসাতে ।
আসিয়া বসিলা এক বৃক্ষের তলাতে ।।
শ্রান্ত হয়ে কন্যা দুটি ঘুমায়ে পড়িল ।
বামুন সুযোগ পেয়ে সে স্থান ত্যাজিল ।।
নিদ্রাভঙ্গে কন্যাদ্বয় তখন লাগিল ভাবিতে ।
কোথা পিতা বলি তারা লাগিল ডাকিতে ।।
উমনো বলে বাবাকে বুঝি বাঘেতে খেয়েছে ।
ঝুমনো বলে বাবা মোদের ত্যাগ করে গেছে ।।
পিঠে খেয়েছিনু মোরা সেই ক্রোধবশে ।
নিষ্ঠুর বাবা মোদের দিল বনবাসে ।।
প্রভাত হইল নিশি হইল সকাল ।
পিঠে খেয়ে দুই বোনের এতেক জঞ্জাল ।।
কোনদিকে যাবে তারা যাবে কোন পথে ।
ঘন বন চারদিকে লাগিল দেখিতে ।।
যাইতে যাইতে তারা দেখে কিছুদূরে ।
কতকগুলি মেয়ে সেথা কিবা পূজা করে ।।
উমনো ঝুমনো দুই বোন সেই স্থানে গেল ।
অমনি ইতুর ঘট উলটি পড়িল ।।
কন্যাগণ বলে রাগে হইল অস্থির ।
কে তোমরা অলক্ষ্মী হেথা হয়েছ হাজির ।।
উমনো ঝুমনো সবকথা বলে কন্যাগনে ।
শুনি সব কন্যা দুঃখ হয় মনে ।।
কন্যাগণ বলে তখন শুন মন দিয়া ।
ইতুব্রত করিলে দুঃখ যাইবে ঘুচিয়া ।।
শুনি তাহা দুই বোন ত্বরা স্নান করে ।
কন্যাদের দুঃখ সঙ্গে তারা ইতুব্রত করে ।।
ব্রত শেষে ইতু পাশে বলে দুই বোন ।
বাপ-মার দুঃখ দূর করুন এখন ।।
ধন-ধান্যে ঘর যেন ভর্তি হয়ে যায় ।
বর দাও সব ইচ্ছা যেন পূর্ন হয় ।।
ঘট লয়ে দুই বোন যায় গৃহ পানে ।
আসি তারা দাঁড়াইল বাড়ির উঠানে ।।
ধনৈশ্বর্য পেয়ে দ্বিজ ইতুর বরেতে ।
আট্টালিকা মাঝে বাস করে আনন্দেতে ।।
কন্যাদ্বয়ে দেখি দ্বিজ লাগিল বলিতে ।
এতদিন পরে তোরা এলি কোথা হতে ।।
পিতৃবাক্য কন্যাদ্বয় শুনি অভিমানে ।
বলে ধনী হইয়াছ মোদের কারণে ।।
ইতুব্রত Etupuja করি মোরা অতি ভক্তিভরে ।
যে কারণে আছ তুমি সুখের মাঝারে ।।
অতএব ইতুব্রত কর ভক্তিভরে ।
শোক-দুই-রোগ-ব্যাধি রবে না সংসারে ।।
এতক্ষণে ব্রাহ্মণী তার গৃহমধ্যে ছিল ।
কণ্ঠস্বর শুনি মাতা প্রাঙ্গণে আসিল ।।
মাতৃস্নেহে কন্যাদ্বয়ে বক্ষেতে লইল ।
আনন্দ অশ্রুতে বক্ষ ভাসিতে লাগিল ।।
কন্যাদ্বয় বলে মাতা করি নিবেদন ।
ভক্তিভরে ইতুব্রত করহ এখন ।।
শুনিয়া ব্রাহ্মণী তাহা অতি ভক্তিভরে ।
ইতুব্রত করে সবে প্রতি রবিবারে ।।
ইতুর কৃপায় সর্ব দুঃখ দূর হৈল ।
দরিদ্র ব্রাহ্মণ রাজেশ্বর্য পাইল ।।
উমনোর বিভা হৈল রাজপুত্র সাথে ।
ঝুমনোর বিভা মন্ত্রী পুত্রের সঙ্গেতে ।।
যথাকালে ব্রাহ্মণের এক পুত্র হয় ।
রূপবান গুণবান সর্বগুনময় ।।
সবে মিলি ইতুব্রত করিতে লাগিল ।
ইতুর বরেতে সব দুঃখ দূরে গেল ।।
যেই নারী এই ব্রত করে ভক্তিভরে ।
অভাব রহে না কভু তাহার সংসারে ।।
যেইজন ব্রতকথা ভক্তিভরে শোনে ।
রোগ-শোক-দুঃখ কিছু থাকে না গৃহেতে ।।
ইতু ব্রতকথা Etupuja হেথা হৈল সমাপন ।
সবে মিলি করি সবে শ্রীহরি স্মরণ ।।
—-অথ ইতুপূজা ব্রতকথা সমাপ্ত। Etupuja
No Comment! Be the first one.