ভক্তিভরে যে সকল নারী সন্তোষীমাতার ব্রত উদযাপন করিবে সেই নারীগণ বৈধব্য যন্ত্রণা পায় না। সকল মনোবাসনা পূর্ণ হয়। সারাজীবন স্বামী-পুত্রাদি ও পরিজনবর্গসহ সুখে স্বচ্ছন্দে কাল কাটায়। গৃহে অর্থাভাব থাকবে না। যে কোন বয়সের পুরুষ ও নারী এই ব্রত করতে পারে।
এক বণিক বাস করিত কোন এক গ্রামে।
নিজ পত্নী ও সপ্তপুত্র রাখি সে যায় স্বর্গধামে।।
ছয় ভাই কর্ম করে আনন্দিত হয়ে।
যাহা অর্থ পায় সবে দেয় আনি মায়ে।।
ছোট ছেলে রামুর ছিল বেকার জীবন।
না পারে করিতে কিছু অর্থ উপার্জন।।
সাবিত্রী নামেতে ছিল রামুর রমনী।
সতীসাধ্বী পতিব্রতা স্বামী সোহাগিনী।।
বিবিধ সুখাদ্য মাতা করিত রন্ধন।
ছয় পুত্রে আগে দেয় করিতে ভোজন।।
ভাইদের উচ্ছিষ্ট রামুকে খেতে দেয়।
বধুদের উচ্ছিষ্ট লয়ে সাবিত্রীকে দেয়।।
একদা সাবিত্রী তার স্বামীর গোচরে।
এই সব জানাইল দুঃখিত অন্তরে।।
একদিন রামু পরীক্ষাতে জানিল।
সব কথা সত্য যাহা সাবিত্রী বলিল।।
বুঝিতে পারিল রামু অর্থ নাই যার।
এ সংসারে জনম বিফল তার।।
বিদেশে যাইব বলে সাবিত্রীর পাশে।
শুনিয়া সাবিত্রী তাহা আঁখিজলে ভাসে।।
নানা দেশ ঘুরে রামু এক দেশে এল।
ধনী সদাগর সাথে দেখা তার হলো।।
রামুকে সে সদাগর কাজ কর্ম দিল।
রামুর বুদ্ধিতে ব্যবসা প্রচুর বাড়িল।।
ব্যবসার অর্ধ ভাগ রামুরে সে দিল।
ক্রমশঃ উন্নতি তার হইতে লাগিল।।
প্রত্যেক মাসেই টাকা সাবিত্রী নামেতে।
পাঠাতে লাগিল রামু আপন বাড়িতে।।
সেই টাকা সাবিত্রী কখনো নাহি পেত।
ছয়ভাই সেই টাকা গোপন করিত।।
ছম্ব জায়ের কথামত, কাজ করে অবিরত।
পেটপুরে নাহি পায় খেতে।।
শাশুড়ীর অত্যাচার, সহ্য নাহি হয় আর।
কাষ্ঠ লাগি বনে হয় যেতে।।
একদিন বন পথে, নিদ্রা আশে আচম্বিতে।
স্বপ্নে দেখে জ্যোতির্ময়ী দেবী।।
বলে আমি মা সন্তোষী, পূজা কর মোরে আসি।
দুঃখনাশ করে থাকি সবি।।
গৃহে যাও পাবে পতি, নাহলে বিলম্ব অতি।
বনমাঝে দেখ দেখি খুঁজে।।
সম্মুখেতে পাবে পথ, কত নারী করে ব্রত।
আমার মন্দির এক মাঝে।।
দেবী হলো অন্তর্দ্ধান, সাবিত্রী পাইল জ্ঞান।
স্বপ্নকথা মনে তার পড়ে।।
চলিতে চলিতে তার, সম্মুখেতে পথ পায়।
উপনীত হয় সে মন্দিরে।।
স্বপ্নে দেখা সেই দেবী বিরাজে মন্দিরে।
নারীগণ ব্রত সবে করে ভক্তিভরে।।
ব্রতের নিয়ম সাবিত্রী জিজ্ঞাসীল।
ব্রতীগণ একে এক সকলি বলিল।।
মন্দিরে সাবিত্রী সন্তোষী ব্রত করে।
প্রসাদ লইয়া কাঠ নিয়ে আসে ঘরে।।
সাবিত্রীর ভক্তিতে মাতা প্রসন্ন হইল।
শীঘ্র ফিরে পাবে পতি স্বপ্নেতে কহিল।।
হেথা মাতা শ্রীসন্তোষী বলিল রামুরে।
সতীসাধ্বী পত্নী তব মোর ব্রত করে।।
যাহ তুমি শীঘ্রগতি তাহার সদন।
দুঃখ তার দূর কর দিয়া দরশন।।
এত বলি স্বপ্নে দেবী হন অন্তর্ধান।
নিদ্রাভঙ্গে রামু মায়ে করিল প্রণাম।।
সেইদিন লাভ তার চারগুণ হলো।
মা সন্তোষীর আদেশেতে গৃহেতে ফিরিল।।
দেখিয়া পত্নীরে রামু হইল বিস্মিত।
সব কথা শুনি সে হইল দুঃখিত।।
রামু ও সাবিত্রী ভজে সন্তোষী মাতারে।
ধনৈশ্বর্য তাহাদের দিনে দিনে বাড়ে।।
ব্যবসা করিয়া তার উন্নতি হইল।
বৎসরের শেষে এক সুপুত্র জন্মিল।।
ধনেপুত্রে লক্ষ্মী লাভ দেখিয়া উন্নতি।
ছয় জায় হিংসা করে তাহাদের প্রতি।।
রামুর করিতে ক্ষতি নিজে সবে ঠকে।
একে একে হিংসুকেরা পড়িল বিপাকে।।
সন্তোষী মাতার কৃপা অবশ্য পাইবে।
সন্তোষীর ব্রতকথা হল সমাপন।।
উলুধ্বনি দাও সবে যত বামাগণ।
জয় জয় সন্তোষী মা, তুমি কল্যানী।
তোমার কৃপায় সবে সুখী হয় জানি।।
……….অথ শ্রীশ্রী সন্তোষীমাতার ব্রতকথা সমাপ্ত।
No Comment! Be the first one.