ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা হয়েছে- “শ্রুতির্মাতা পৃষ্টা দিশতি ভবদারাধনবিধিং” অর্থাৎ শ্রুতিসমূহ হচ্ছে মানবের মাতা। ভগবৎ তত্ত্বজ্ঞান আমরা যেমন মায়ের কাছ থেকে আমাদের পিতার পরিচয় জানতে পারি, ঠিক তেমনি শ্রুতি বা বৈদিক শাস্ত্ররূপ মাতার মাধ্যমে আমাদের পরম পিতার পরিচয় জানতে পারি।
বৈদিক শাস্ত্রসমূহ কোনো ব্যক্তিবিশেষের রচিত সাহিত্যকর্ম নয় যে, তা ব্যক্তির মনোধর্মপ্রসূত জল্পনা কল্পনার দ্বারা রচিত হয়েছে। বদ্ধজীবের উদ্ধারের জন্য ভগবান স্বয়ং এ সকল শাস্ত্র প্রবর্তন করেছেন। সৃষ্টির প্রারম্ভে ভগবান ব্রহ্মাকে প্রথম এ জ্ঞান দান করেন। বৈদিক শাস্ত্রে কোনো ভ্রান্ত মতবাদ দেয়া হয়নি। আমরা শাস্ত্রকে তখনই প্রামানিক বলতে পারি যখন তাতে লিখিত সকল বিষয় সত্য বলে প্রমানিত হয়। বৈদিক শাস্ত্রসমূহে এমন অনেক দৃষ্ঠান্ত রয়েছে। ভগবৎ তত্ত্বজ্ঞান যেমন-
- ডালটন মাত্র দু’শ বছর আগে পরমাণু আবিষ্কার করেছেন, কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে রচিত শ্রীমদ্ভাগবতে এ তথ্য দেয়া হয়েছে যে, পরমাণু অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণা। ব্রহ্মসংহিতাতেও (৫/৩৫) বলা হয়েছে যে, শৃঙ্খলাযুক্ত জড় পদার্থের বিন্যাসে বৃহত্তম ইউনিটি বা একক হচ্ছে ব্রহ্মাণ্ড এবং ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে পরমাণু।
- আইনস্টাইন কিছুকাল আগে স্থান-কালের আপেক্ষিকতা বিষয়ে আলোচনা করেছেন; কিন্তু ভাগবত পুরাণে কুকুদ্মি মুনির আপেক্ষিকতা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে।
- বৈদিকশাস্ত্রে বিভিন্ন অবতারসমূহও বা মহাপুরুষগণের বিশদ বিবরণসহ তাঁদের আবির্ভাবের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী প্রদত্ত হয়েছে। শ্রীমদ্ভাগবতে এমন কয়েকজনের কথা বর্ণনা করা হয়েছে- বুদ্ধদেব (১/৩/২৪), শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (১১/৫/৩২), চাণক্য (১২/১/১১) প্রমুখ।
No Comment! Be the first one.