একদা ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির শতানীক মুনির নিকট ধর্মকথা-শ্রবণ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- “হে মহর্ষিপ্রবর। আপনার মুখে ইতিপূর্বে জলদানের মাহাত্ম্য শ্রবণ করেছি, অধুনা পুনরায় উহা সবিস্তারে শ্রবণ করার বাসনা করছি। কৃপা করে পুরঃসর কীর্তন করুন।
শতানীক বললেন- পুরাকালে কর্কশভাষী, ক্রোধী, নিষ্ঠুর, ধর্মকর্ম ত্যাগী এক ব্রাহ্মণ ছিল। একদা এক ব্রাহ্মণ ক্ষুদা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে তার দ্বারে গিয়ে কিছু অন্ন আর জল প্রার্থনা করেন। তাতে নিষ্ঠুর সেই ব্রাহ্মণ অত্যন্ত রেগে বললেন-যাও-যাও, এখানে ও সব কিছু হবে না, তুমি এখনি এখান হতে দূর হয়ে যাও। আমার ঘরে ও সব কিছু নেই। এই কথা শুনে সেই ক্ষুধার্ত ব্রাহ্মণ চিন্তা করতে লাগলেন, তাইতো কি করি কোথায় যাই।
এমন সময় সেখানে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণের স্ত্রী সুমতি ছিল সতীসাধ্বী আর ধর্মপরায়ণা। সে স্বামীকে বলল-প্রভু। ক্ষুধাতৃষ্ণার্ত অতিথিিএস যদি তোমার গৃহ হতে বিমুখ হয়ে প্রস্থান করে, তাহার বিষন্ন মুখ দেখে যদি তোমার প্রাণে বেদনা অনুভূত না হয়, তাহলে এই ধন সম্পদ আর সংসার ধর্মের কি দরকার? এই বলে সুমতি সেই ক্ষুধাকাতর ব্রাহ্মণকে পরিষ্কার শীতল জল দিল। সেদিন ছিল অক্ষয়তৃতীয়া। তিথি মাহাত্ম্যে সেই জলদান অক্ষয় হয়ে গেল। হে ধর্মরাজ। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তিথিটিই অক্ষয়তৃতীয়া। এই দিন যে কর্মের অনুষ্ঠান করা হয়, তাই অক্ষয় হয়ে যাবে। এই তিথিতে জলদান করলে অন্তকাল বিষ্ণুলোকে তার চিরবাস হয়।
এই ঘটনার পর ব্রাহ্মণের কালপূর্ণ হলো। তখন যমদূতেরা এস সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণকে বেঁধে যমরাজের কাছে নিয়ে গেল। তখন যমদূতেরা এসে সেই নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণকে বেঁধে যমরাজের কাছে নিয়ে গেল। তখন তৃষ্ণায় সেই ব্রাহ্মণের কণ্ঠতালু শুকিয়ে গেছে। তার উপর যমদূতদের উৎপীড়ন সহ্য করতে না পেরে, সেই ব্রাহ্মণ বলল- হে ধর্মরাজ। আমার প্রতি কি আদেশ হয়? আমি ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর হচ্ছি।
যমরাজ তখন দূতগণকে বললেন- একে তোমরা ত্যাগ কর। এই বক্তি খুব পূন্যবান্। এর পত্নী বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়ায় একজন তৃষ্ণায় কাতর ব্রাহ্মণকে জলদান করেছিল। এই কথা বলে ধর্মরাজ যম সেই ব্রাহ্মণকে বললেন-হে ব্রাহ্মণ। তুমি গৃহে ফিরে যাও। তোমার পত্নী বৈশাখের অক্ষয় তৃতীয়াতে জলদান করেছিল বলেই তোমার নরকবাস হলো না। এই তিথিতে যে যা পুণ্য কাজ করে তা অক্ষয় হয়ে থাকে। তখন ব্রাহ্মণ নরক মুক্ত হয়ে পরজন্মে পত্নীসহ জর্নাদনের আরাধনা করে ব্রতের অনুষ্ঠান দ্বারা বৈকুণ্ঠে গমন করেন।
অথ অক্ষয় তৃতীয়া ব্রতকথা সমাপ্ত।
ব্রতের ফল- এই ব্রত আমাদের দেশে চিরপ্রচলিত। এই ব্রতের ফলে ইহলোকে সর্বপ্রকার সুখের অধিকারী হয়ে মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠে বাস হয়। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই এই ব্রত পালনের অধিকার আছে।
No Comment! Be the first one.