ভক্ত সুরদাস নামে ভগবানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন অন্ধ। একবার রাতে অন্ধকারে হাতে হারিকেন নিয়ে সুরদাস যাচ্ছেন। সবাই জিজ্ঞাস করছেন, সুরদাসজী আপনি তো চোখে দেখেন না। হারিকেন কেন হাতে? সুরদাসজী বললেন, যাদের চোখ আছে তাদের জন্য। হঠাৎ কিছু দূর গিয়ে একটা গর্তে পড়ে গেলেন তিনি। সুরদাস চিৎকার করে বললেন, কেউ আছো?
কিন্তু কেউ এলো না। এইদিকে রাধাকৃষ্ণ নিভূত কুঞ্জে সখীদের সাথে গান শুনছে। সুরদাসের গলা শুনে রাধা ব্যাকুল হয়ে উঠল। কৃষ্ণ রাধাকে বললেন, সুরদাস আমার ভক্ত। তুমি কত করুনাময় সুরদাসের গলা শুনে এমন ব্যাকুল হয়ে উঠলে। শ্রীরাধে বললেন, চল না সুরদাসকে সাহায্য করি। আমি যাব কিন্তু সুরদাস যেন তা বুঝতে না পারে।
রাধা রাণী ছমছম নুপুরের ধ্বনি করে চললেন শ্রীকৃষ্ণের সাথে। গর্তের কাছে গিয়ে কৃষ্ণ সুরদাসকে বললেন, এত রাতে ঘুরলে এমন হয়। সুরদাস বললেন, আমাকে উপরে তুলুন।
উপরে উঠতের সময় সুরদাসের হাতটা লাগল রাধারানীর চরণে। রাধারাণী লুকিয়ে গেল। সুরদাস অন্ধকারে তাহ দিয়ে লাঠি খুজতে লাগলেন। তার হাতে লাগল রাধারাণীর চরনের নুপুর। সুরদাস বুদ্ধিমান বললেন, এই নুপুর যার সে সাধারণ কেউ নয়। যে আমাকে তুলল সে নিশ্চয়ই আমার গোবিন্দ।
নুপুর যার তার চরন এত কোমল। সে নিশ্চয়ই করুনাময়ী শ্রীমতি রাধারানী। খুশি হয়ে রাধারানী সুরদাসকে বর দিতে চাইলেন। সুরদাস কোনো বর নিতে চাইলেন না। কৃষ্ণ বললেন, তুমি কিছু বর চাও।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন, রাধে করুণাময়ী তোমায় কিছু দিবে সুরদাস। তুমি বর চাও। কৃষ্ণের কথায় সুরদাস বর চাইলেন, আমাকে দিব্যদৃষ্টি দাও। আমি যেন যুগল দর্শন করতে পারি। বলা মাত্র সুরদাস দিব্যদৃষ্টি পেলেন।
নয়ন ভরে যুগল রাধা-শামসুন্দর এর যুগল রূপ দর্শন করলেন। রাধারানীর চরনে সুরদাস হাত জোড় করে নিবেদন করলেন। হে মাতা রাধে আমায় অন্ধ করে দাও। আমি আর এইজগত দেখতে চাই না।
যুগল দর্শনের পর আর কিছু চাই না। রাধে বললেন, অন্ধ হয়ে কেন থাকতে চাও? সুরদাস বললেন, এই জগত যাঁরম তাকে তো দেখলাম। আর কিছু দেখতে চায় না।
No Comment! Be the first one.