একদিন নারদজী ভগবানকে খুঁজেছিলেন। তিনি তো থাকেন বৈকুণ্ঠে। কিন্তু বৈকুণ্ঠে গিয়ে দেখলেন, ভগবান বৈকুণ্ঠে নেই। মা লক্ষ্মী আছেন। নারদজী মা লক্ষ্মীকে জিজ্ঞাসা করলেন- মা প্রভু কোথায় গেলেন?
মা লক্ষ্মী বললেন- “প্রভু কোথায় গেলেন আমাকে বলে যান নি। নারদজী চিন্তা করছেন, মা লক্ষ্মীকে ছেড়ে প্রভু চলে গলেন। প্রভুর প্রিয়া তিনি। মনে হয় প্রভুর আর কেউ আছে যিনি প্রভুর প্রিয়। সেখানে গেছেন।
নারদজী ঘুরতে ঘুরতে মান সরোবরের কাছে চলে এলেন। সেখানে বড় বড় যোগী তপস্যা করছিলেন গুহাতে বসে। নারদজী ধ্যানযোগে সকলের হৃদয়ে গিয়ে ভগবানকে খুঁজলেন। কিন্তু সেখানেও ভগবান নেই। ভগবান কোথায় আছেন? খুঁজতে খুঁজতে ঘুরতে লাগলেন। ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীতে একটা ছোট গ্রামে এসে পৌঁছলেন। তিনি দেখলেন সেখানে কীর্ত্তন হচ্ছে-
“শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ হরে মুরারী হে নাথ নারায়ণ বাসুদেবা”
কীর্তন চলছে নিরন্তর। নারদজী কীর্তনের শব্দ শুনলেন। নারদজী ভাবছেন “ভগবান বৈকুণ্ঠে নেই, যোগীদের হৃদয়ে নেই। তিনি কি এখানে আছেন?
নারদজী একটু গিয়ে দেখলেন কীর্তনের মধ্যে ভগবান আছেন কিনা। নারায়ণ নারায়ণ। নারদজী দেখলেন পঞ্চাশ জন ভক্ত বসে আছে। আসনে উপরে সাক্ষাত ভগবান নারায়ন বিরাজমান। নারদজীও বসে পড়লেন। নারায়ণ নারদজীকে দেখে হাসতে লাগলেন। নারদজী হাসছেন না। ভক্তরা কীর্তন করে চলে গেলেন। নারদজী প্রভুর চরণে গিয়ে পড়লেন।
আর ভগবানকে বললেন-
প্রভু আপনি কোথায় থাকেন, সত্যিকারে আপনার থাকার নিবাস কোথায় প্রভু একটু বলবেন। আপনার বৈকুণ্ঠে গেলাম পেলাম না। যোগীদের হৃদয়ে দেখলাম পেলাম না। এখানে ভক্তরা কীর্তন করছে। ওখানে আপনাকে পেলাম। সত্যিকারে আপনি কোথায় থাকেন?
প্রভু বললেন- নারদজী তুমি তো জানো। আমি ভক্ত ছাড়া থাকতে পারি না। যেখানে আমার ভক্তরা নিরন্তর কীর্তন করে, আমি সেখানে থাকি। নারায়ণ নারায়ণ। না আমি বৈকুণ্ঠে থাকি, না আমি যোগীদের হৃদয়ে থাকি। ভক্ত যেখানে নিরন্তর আমার নাম কীর্তন করে আমি সেখানে অবস্থান করি নারদ। সেই স্থান আমার অত্যন্ত প্রিয়।
প্রভুর নাম যেখানে হয়, সেখানে ভক্তদের খুব কাছে ভগবান অবস্থান করেন। কোনরূপে তিনি বসে আছেন কেউ বলতে পারে না। কারণ প্রভুর নাম প্রভুকে কাছে নিয়ে আসে।
No Comment! Be the first one.