একদা এক নাপিত ছিল তার নাম নন্দ। সে বিহারীজী ভক্ত ছিল। সকালে উঠে বিহারীজীর সেবা করত। বিহারীজীকে ভোগ লাগাত। কীর্তন করত। তারপর নিজের কাজে যেত। রাজার দাঁড়ি কাটা তাঁর প্রথম কাজ। তারপর রাজা রাজ সভাতে যেত। তারপর নন্দা নাপিত নগরে কাজ করতে যেত। যা পেত তাতে জীবন কাটত।
একটি শ্রীকৃষ্ণসেবার পর কীর্তন করতে করতে নন্দা কৃষ্ণ ধ্যানে হারিয়ে গেল। পত্নী দেরি হচ্ছে দেখে আর রাজার ক্রোধের কথা ভেবে নন্দাকে ডাকতে লাগল, “ও শোনো, রাজার দরবারে যাবার সময় হয়ে গেল।”
রাজা যদি দাঁড়ি কাটা না হয় তাহলে রাজা খুব ক্রোধিত হয়ে যাবে। নন্দা জলদি নিজের জিনিস পত্র নিল আর রাজমহলের দিকে দৌড়াল। যখন মহলে পৌছাল তখন ওখানে দেখল রাজা দরবারের জন্য বের হয়ে যাচ্ছে। রাজা তখন নন্দাকে দেখে বলল, “কিছু সময় আগে তো কি সুন্দর দাঁড়ি কাটলে, তোমার সব ঠিক আছে তো। কোন অসুবিধা হয়নি তো, কোন কিছু চাই তোমার?”
অন্তরের ভিতরে নন্দার খুব আশ্চার্য হচ্ছিল।
সন্দ্যায় নন্দা রাজার দরবারে আবার আসল। নিজ উৎকণ্ঠা শান্ত করতে।
রাজা বলল- কি ব্যাপার তুমি নন্দা। আজ দুই বার কি দাঁড়ি কাটবে নাকি?
সকালে তুমি এলে, ভাল দাঁড়ি কাটলে। অঙ্গসেবা করলে এতো আনন্দিত হলাম। আজ পর্যন্ত এত আনন্দ কোনদিন পায়নি।
এ শুনে নন্দা নাপিত কাঁদতে লাগল আর কাঁদতে কাঁদতে বলল- হে রাজন, আপনি খুব ভাগ্যবান। আমি যার ভক্তি করি দিন রাত। আকামে উনি কোনদিন দর্শন দেননি। আজ আমার মত অধম ভক্তের মান বাঁচাতে স্বয়ং এসে আপনার দাঁড়ি কাটল। আমি তো সকালে আসতে পারিনি। যখন আসলাম তখন আপনি রাজ সভার পথে চলে গেছেন। আমি তখন কিছু বলতে পারলাম না ভয়ে। এখন বুঝলেন মহারাজ আমার বিহারীজী এসে ছিল আপনার কাছে। আজ খুব লজ্জা হচ্ছে। আমার মত অধম ভক্তের হীন কাজ করতে। এই কথা বলে নন্দা নাপিত কাঁদতে লাগল।
এ কথা শুনে সেখানে উপস্থিত দরবারে সকলে ভক্তিময় হয়ে উঠল। সকলে নতমস্তকে ভক্তবৎসল ভগবানের জয় দিতে লাগল, ভক্তের জয় দিতে লাগল।
জয় ভক্তবৎসল ভগবান কি !! জয় !!
No Comment! Be the first one.