সনাতন ধর্মের চারটি বর্ণ প্রথা প্রচলিত আছে। যথাঃ
- ব্রাহ্মণ
- ক্ষত্রিয়
- বৈশ্য
- শূদ্র
আমরা মনে করি যে, একজন ব্রাহ্মণের পুত্রই ব্রাহ্মণ!
ক্ষত্রিয়ের পুত্রই ক্ষত্রিয়!
বৈশ্যের পুত্রই বৈশ্য!
শূদ্রের পুত্রই শূদ্র!
এই সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের প্রথমেই জানতে হবে-
ব্রাহ্মন কি?
ক্ষত্রিয় কি?
বৈশ্য কি?
শূদ্র কি?
ব্রাহ্মণঃ ব্রহ্মজ্ঞানে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি সত্ত্বঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
ক্ষত্রিয়ঃ শাসক বা যোদ্ধা সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি, যিনি রজঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
বৈশ্যঃ ব্যবসায় সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি, যিনি রজঃ ও তমঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
শূদ্রঃ শ্রমজীবি সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন শূদ্র, যিনি তমঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
ব্রাহ্মণরা তপস্যা করেন, ক্ষত্রিয়রা শাসন ও যুদ্ধ করেন, বৈশ্যরা ব্যবসা করেন এবং শূদ্ররা শ্রমবিক্রি করে জীবনযাপন করেন। আমরা এর মাধ্যমে বুঝতে পারছি যে, যে যেরকম কর্ম করবে, সে সেই উল্লিখিত বর্ণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। অর্থাৎ একজন শূদ্রের পুত্র যদি ব্রহ্মজ্ঞানে দীক্ষিত হয় তাহলে সে ব্রাহ্মণ হবে এবং ঠিক এভাবেই একজন ব্রাহ্মণের পুত্র যদি শ্রমবিক্রি করে জীবনযাপন করে তাহলে সে শূদ্র হবে। এই যে বর্ণ বিভাজন- এটা কিন্তু জন্মভেদে নয় কর্মভেদে।
বর্ণপ্রথা সম্পর্কে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বলেছেনঃ
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ
তস্য কর্তারমপিমাং বিদ্ব্যকর্তারসব্যয়ম।। (৪/১৩)
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন আমি চার বর্ণের রচনা করেছি। কিন্তু আমি মানুষকে চারটি শ্রেণিতে বিভাগ করিনি। গুণের আধারে কর্মকে চারভাগে বিভক্ত করেছি। গুণ এখানে মানদন্ড। কর্ম একটাই-নিয়ত কর্ম, আরাধনা। অবস্থাভেদে এই কর্মকেই উঁচুনিচু শ্রেণিতে বিভাগ করা হয়েছে। সুতরাং ব্রাহ্মণের সন্তান হলেই যে ব্রাহ্মণ হবে এমনটি নয়। কোন শূদ্রের সন্তানও ব্রাহ্মণ হতে পারে। আবার শূদ্রের সন্তান যে শূদ্র হবে এমনটি নয়। কোন ব্রাহ্মণের সন্তান যদি শ্রমবিক্রি করে জীবনযাপন করে তাহলে সে শূদ্র বলে গণ্য হবে। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে নিজ নিজ কর্মের উপর।
No Comment! Be the first one.