১) আউলঃ
মায়াবাদের প্রকার বিশেষ এই মতবাদ। নিজেদের ঈশ্বর বলে মনে করে প্রকৃতিকে ভোগ করে যথেচ্ছাভাবে। পরনারী সঙ্গ করে। পতিতা বারবণিতো এদের কোন বাচ-বিচার নেই। সকলের সাথে এদের সমন্বয়। অবাধ মেলামেশা, বিধবা লোলুপ এবং পরস্ত্রী ভুলিয়ে নিতে পারলে এরা আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলে।
২) বাউলঃ
এটিও মায়াবাদের মধ্যে। আউল বাউলের মধ্যে আচার ব্যবহার সামান্য পার্থক্য থাকলেও এরা মহাসম্ভোগবাদী। আচার্য শ্রীল বিনোদ ঠাকুর লিখেছেন।
বাউল বাউল বলছ বটে বাউল হচ্ছে ক’জনা।
দাড়ি চূড়া রেখে ভাইরে লোককে ককরছ বঞ্চনা।।
দাড়ি এবং গোফ রেখে এরা ঘুরে বেড়ায়। এরা পরনারী সঙ্গদোষী। পরের নারী নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। নারী পুরুষের অবাধ মিলনে যেন রাধা কৃষ্ণের প্রেম অনুভব হয়। তাই আবারও ভক্তি বিনোদ ঠাকুর মহাশয় বলছেন-
সহজ ভজন করছ মামু
সঙ্গে লয়ে পরের বালা
সখিভাবে ভজছেন তারে
নিজে হয়ে নন্দলালা।।
এসবই তাদের লীলা খেলা। শুক্র, শোণিত, মল মুত্রাদি ভক্ষণ এদের সাধন প্রণালি।
৩) কর্তাভজাঃ
এ মতের প্রবর্তক আউলে চাঁদ। এরা গুরুকে কর্ত বলে। গুরুকেই ঈশ্বর ভাবে। গুরুই এদের গৌরাঙ্গ। এরা ঘোর ভক্তি বিরোধী মায়াবাদি। এদের মঝে উচ্ছিষ্ট ভোজন প্রথা প্রচলিত আছে। এরা গুরু সত্য হরি সত্য বলে কিন্তু কোন সদাচার পাল
৪) নেড়াঃ
কথিত আছে এদের দলে বারশত নেড়া তেরো শত নেড়ী ছিল। এরা শ্রীনিত্যানন্দাত্মজ বীরভদ্র প্রভুর অনুগব্রুব। বীরচন্দ্র প্রভুর উদ্দেশ্য ছিল এরা সদাচারী হয়ে হরিভজন করুক। কিন্তু প্রভু বীরচন্দ্রের সে ইচ্ছা উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তারা স্বতন্ত্রতার অপব্যবহার করে মৎস্য মাংসাদি ভক্ষণ পূর্বক অপকর্মে লিপ্ত হয়। শাস্ত্র ও মহাপ্রভুর ভাবধারা এবং গোস্বামীদের আদর্শকে অবজ্ঞা করায় এরা নেড়া বলে কথিত হয়।
৫) দরবেশঃ
এরা প্রচ্ছন্নবাদী। কারাগার থেকে বিমুক্ত হওয়ার অছিলায় কারারক্ষী কে শ্রীল সনাতন গোস্বামীপাদ ৭০০০ মুদ্রা দিয়ে বলেন, তিনি দরবেশ সেজে মক্কায় যাবেন। কিন্তু সনাতন গোস্বামী মহাপ্রভুর দর্শন করেন কশিধামে। সেখানে মহাপ্রভুর কাছে সম্বন্ধ, অভিধেয় এবং প্রয়োজন তত্ত্ব প্রসঙ্গে উপদেশ গ্রহণ করেন। কিন্তু কতক দূর্ভাগা সনাতন গোস্বামীপাদের উদ্দেশ্য না বুঝতে পেরে কৃত্রিম উপায়ে দরবেশ সেজে সনাতন ধর্মকে উপেক্ষা করে স্ফটিক ও প্রবালের মালা এবং আলখেল্লা পরিধান করে, দাড়ি, চুল রেখে যত্রতত্র আহার বিহার করে ঘুরে বেড়ায়।
৬) সাঁইঃ
এরা প্রায় বাউলের মতই। নির্বিশেষবাদি। আলোক সাঁই, ক্ষিরোদ সাঁই, গর্ভ সাঁই, নানক সাঁই এদের উপদেষ্টা ছিল। এরা অহিন্দু আচার পালন করে।
৭) সহজিয়াঃ
চিন্ময় ধর্মের বিকৃত প্রতিফলন কারী এরা। ভগবানের জন্ম কর্ম নিত্য এই তত্ত্ব এরা মানে না। যেমন আমরা কিছু ব্যক্তি আছি। তারা বলেন কৃষ্ণ রক্ত মাংসের গড়া। তা না হলে জরা ব্যাধের শরাঘাতে কেন বিদ্ধ হবে। মাধাইয়ের কলসির আঘাতে নিতাইয়ের মাথা কেন ফাটবে। নিমাই যদি শৌত্রু জন্ম না হবেন তবে কেন শচী জগন্নাথ তাঁর মা বাবা হবেন ইত্যাদি তাদের ভাবনা। গীতার মতে এরা মূঢ়।
অবজান্তি মাং মূঢ়া, মানুষীং তনুমাশ্রিতম্।
এই দলের লোকরা বৈষ্ণবে জাতিবুদ্ধি, গুরুকে মর্তবুদ্ধি, প্রসাদকে ডাল ভাত মনে করে। নীচু জাতির স্পর্শে এদের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়।
৮) সখিভেকিঃ
এরা বিবর্তনবাদি। নিজের মরদেহকে সখি বা গোপি ভেবে চুল রেখে, খোপা বাধে। শাখা সিঁদুর, শাড়ি চুড়ি, পায়ে আলতা ধারন করে। এরা কখন ললিতা, কখনও বিশাখা, কখনও বা চম্পকলতা সখি সেজে গোফ দাড়ি সেফ করে হিজড়ের ন্যায় সেজে কৃষ্ণ সেবার ভান করে।
৯) স্মার্তঃ
যার প্রবর্তক নবদ্বীপের রঘুনন্দন ভট্টাচার্য। তিনি অসুরদের বিধি বিধান দিয়ে গেছেন। এটা কল্পিত। নবদ্বীপের ভঙ্গ কুলিন ব্রাহ্মণ কুলোদ্ভুত রঘুনন্দন এই জড়কর্মস্মার্ত।
১০) জাত গোঁসাইঃ
যেটা আমরা আমাদের সমাজে দেখতে পায়। গোঁসাই গীরিই এদের পেশা। গুরুর ছেলে গুরু আবার ছেলেও গুরু। এদের চৌদ্দ গুষ্ঠি গুরু। শিষ্যরা এদের কাছে ক্রিতদাস। এরা মহাপ্রভুর নাম ভাঙায় খাই। যে বাড়ির শিষ্য টাকা দিতে পারবে সেটা ভাল। পান বিড়ি সিগারেট গুল সেবন করে। দেখা যাবে বড় সাধু কিন্তু কাজের বেলা অসাধু।
এরা সদাচারী না। দীক্ষা দেই সেই শিষ্য মুরগির চরণ সেবা করে। গুরুও মাঝে মাঝে সেবা করে। যারা যে মন্ত্র চাই তাকে সেই মন্ত্র দান করে। শিষ্য বাড়ানোর কু- মতলব।
১১) অতি বাড়িঃ
উৎকল দেশের জগন্নাথ দাস নামক বৈরাগী এই মতের প্রচারক। মহাপ্রভুর শিক্ষাকে অতি মার্জিত করার মানসে এরা খুব বাড়াবাড়ি করে। তাই এদের অতি বাড়ি বলে অভিহিত। কথায় বলে বেশি বাড়া ভাল না ঝড়ে ভেঙে যাবে।
১২) চুড়াধারীঃ
এটিও অপসম্প্রদায়। এরা ভোগবাদি, নিজে কৃষ্ণ ভেবে চূড়া ধারণ করে। কৃষ্ণের ন্যায় বাঁশি বাজাই। এরা সকল প্রকার ব্যভিচারগ্রস্থ।
১৩) গৌরাঙ্গ নগরীঃ
এটি কাল্পনিক মতাদ। গৌর কৃষ্ণ অভিন্ন। এই অভিন্নতা ভেবে সন্ন্যাসী শিরোমনি শ্রী গৌর সুন্দর কে গৌরাঙ্গ নাগর ভেবে তারা পুজো করে। কিন্তু তারা জানে না শ্রীকৃষ্ণ নাগর হলেও গৌর নাগর নহেন। যদিও কৃষ্ণ গৌরাঙ্গ তবু গৌরাঙ্গ নাগর নহেন তার এই লীলায়। তাই মহাত্মা তোতারাম এদেরও সঙ্গ করতে নিষেধ করেছেন।
No Comment! Be the first one.