গো-পূজার দিন গাভীদের মনোরমভাবে সাজানো হয়। তাদের অঙ্গে অলুদ ও সিঁদুরের ছাপ এবং নকশা আঁকা হয়। তাদের শিঙগুলোকে সজ্জিত করা হয়। এদিন গাভীদের সতেজ তৃণ-গুল্ম এবং মিষ্টদ্রব্য ভোজন করানো হয়। গাভীদের সুন্দরভাবে পূজা করে পরিক্রমা করা হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে নর গো-গাত্রে শুক্লবর্ণ চিত্রাদি রচনা করে পরিক্রমা করা হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে নর গো-গাত্রে শুক্লবর্ণ চিত্রাদি রচনা করে কাজল, ফুল ও তৈল দ্বারা গোপূজা করে তার অক্ষয় স্বর্গলাভ হয়। যে ব্যক্তি প্রতিদিন পরের গাভীকে ঘাসমুষ্টি প্রদান করে, তার সর্বপাপক্ষয় ও অক্ষয় স্বর্গলাভ হয়ে থাকে (পদ্মপুরাণ, সৃষ্টিখণ্ড ৪৮/১২০-১২১)। এভাবে গাভীদের অর্চনা করার মাধ্যমে গাভীদের হিতকারী গোবিন্দকে সন্তুষ্ট করা হয়। বৈদিক শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে একজন ব্যক্তির সাতজন মাতা রয়েছেন। তারা হলেন- গর্ভধারিণী মাতা, ধাত্রীমাতা, গুরুপত্নী, রাজপত্নী, ব্রাহ্মণপত্নী, পৃথিবী দেবী এবং গাভী। গর্ভধারিণী মাতা ছাড়াও অন্য ছয়জন আমাদের জীবনধারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন, তাই তারা আমাদের মাতা। চিন্ময় জগতে সবচেয়ে মঙ্গলময় পশুরূপে সুরভী প্রভৃতি গাভী তারা আমাদের মাতা। চিন্ময় জগতে সবচেয়ে মঙ্গলময় পশুরূপে সুরভী প্রভৃতি গাভী রয়েছে। সুরভীরভিপালয়ন্তম্ (ব্রহ্মসংহিতা ২৯)- অর্থাৎ সেখানেও গাভীগণ সুন্দরভাবে পালিত হন। বৈদিক শাস্ত্রে গাভীকে নানাভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে। গাভীগণ হলেন অঘ্না- অর্থাৎ তাঁকে হত্যা করা যাবে না। তিনি দুধ প্রদান করে আমাদের পালন করেন বলে মাতা হিসেবে স্বীকৃত। তাই এদিন গাভীদের বিশেষভাবে পূজা করা হয়। বৃন্দাবন ধামে এটিকে অত্যন্ত শুভদিন গণ্য করা হয় এবং শুভকার্যের প্রারম্ভ করা হয়। এই দিন নন্দমহারাজ পুত্র কৃষ্ণকে গোবৎসদের দেখাশোনার জন্য প্রদান করেন। সেই উৎসব স্মরণে গৌড়ীয় বৈষ্ণবেরা এদিন গোমাতা ও গোবৎসদের পূজা করে থাকে। ওঁ গবে নমঃ মূলমন্ত্রে দশ-উপচারে গোমাতার পূজা করা যায়।
ওঁ নমো গোভ্যঃ শ্রীমতিভ্যঃ সৌরভেভ্য এব চ।
নমো ব্রহ্মা সূতাভ্যশ্চ পবিত্রাভ্যো নমো নমঃ।।
No Comment! Be the first one.