গোপাষ্টমী সম্বন্ধে কূর্মপুরাণে বলা হয়েছে- কার্তিক মাসের শুক্ল অষ্টমী গোপাষ্টমী নামে বিখ্যাত। এদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রথম গোচারণে যান। এদিন যারা গাভীদের অর্চনা করবে, তাদের ভোজন প্রদান করবে, প্রদক্ষিণ করবে এবং অনুগমন করবে তাদের সমস্ত কামনা পূর্ণ হবে। শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্দের একাদশ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে, গোকুলে অসুরদের আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে গোপেরা নন্দ মহারাজের ভ্রাতা উপানন্দের পরামর্শে বৃন্দাবনে গমন করেন। যেহেতু বৃন্দাবন তৃণ-গুল্মে পরিপূর্ণ, সুসজ্জিত ছিল এবং এর নিকটেই গোবর্ধন পর্বত বিদ্যমান ছিল, তাই তারা বৃন্দাবনে যেতে মনস্থ করলেন। এর কিছুদিন পরে কৃষ্ণ, বলরাম এবং অন্য গোপবালকদের গোচারণের দায়িত্ব দেয়া হলো। যে বিশেষ তিথিতে নন্দ মহারাজ প্রভৃতি জ্যেষ্ঠ গোপেরা তাঁদের গোচারণের দায়িত্ব দেন, সেটি ছিল দামোদর মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথি, যেটি গোপাষ্টমী নামে বিখ্যাত।
গোপাষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ শ্রীমতি রাধাঠাকুরাণীর শ্রীচরণ এদিন দর্শন লাভ হয়। শ্রীমতি রাধারাণী এবং অন্যান্য গোপিকাগণের শ্রীচরণকমল ব্রহ্মাদি দেবতাদেরও দুর্লভ। তাই বছরের অন্য সময় তাদের চরণ প্রদর্শিত হয় না। কিন্তু যেদিন কৃষ্ণ প্রথম গোপারণে যান, তখন এটি খুব আনন্দের দিন বিবেচনায় শ্রীমতি রাধারাণী তাঁকে দর্শন করতে চাইছিলেন না। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে ভগবানের অভিন্না রাধারাণী তাঁকে দর্শন করতে পারছিলেন না। তখন কৃষ্ণের সখা সুবল তাঁকে সহায়তা করলেন। রাধারাণীর কাকাতো ভাই সুবল দেখতে প্রায় রাধারাণীর মতোই ছিলেন। তাই তিনি সুবলের ন্যায় বেশভূষা ধারণ করে গোষ্ঠে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করেন। এজন্য গোপাষ্টমীতে শ্রীমতি রাধারানী এবং অন্য গোপিকাদের শ্রীচরণ দর্শন সম্ভব হয়। তাই এদিনটি অত্যন্ত মহিমান্বিত। এদিন থেকে বিশেষভাবে গোবর্ধন পর্বত পরিক্রমা এবং একইসাথে মথুরা ও বৃন্দাবনের যুগল পরিক্রমা আরম্ভ হয়। ভক্তদের উচিন এদিন গাভীদের উত্তর ঘাস ও ফল-মূল সেবন করিয়ে, তাঁদের পরিক্রমা এবং গোশালা মার্জন করা।
[…] তুমি আত্মারূপী হ’য়ে, শ্রীচৈতন্য-সমাশ্রয়ে, বৃন্দাবনে থাক অনিবার।। […]