শরতের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে কার্তিক মাসে ব্রজবাসীরা মহাসমারোহে ইন্দ্রপূজার আয়োজন করেন। কৃষ্ণের বয়স তখন সাত বছর। তাঁর পিতা এবং অন্যান্য লোকেদের নানান কাজে ব্যস্ত দেখে জিজ্ঞেস করলেন, বাবা, তোমরা কী করছো? তখন নন্দ মহারাজ বললেন যে, আমরা ইন্দ্রপূজা করছি। কৃষ্ণ জিজ্ঞেস করলেন, ইন্দ্রপূজা কেন করছো? নন্দ মহারাজ বললেন, দেখো আমরা তো বৈশ্যজাতি। কৃষি এবং গো-পালন হচ্ছে আমাদের জীবিকা। গো-পালনের জন্য আমাদের ঘাসের দরকার, চাষবাসের জন্য আমাদের বৃষ্টি দরকার। আর ইন্দ্র হচ্ছেন বৃষ্টির দেবতা। তাই আমরা ইন্দ্রের পূজা করি যাতে ইন্দ্র আমাদের প্রতি প্রসন্ন হয়ে বৃষ্টি দান করেন। কৃষ্ণ বললেন, বাবা, সমুদ্রের মাঝখানে তো কেউ ইন্দ্র পূজা করে না, তাহলে সেখানে কেন বৃষ্টি হয়? দেখো বাবা, শুধু শুধু লৌকিক আচার করে আমাদের কী লাভ ! আমাদের জীবিকা গো-পালন। গাভীদের বর্ধনের জন্য আমরা গোবর্ধনের কাছে ঋণী, ইন্দ্রের কাছে নয়। চলো আমরা গোবর্ধনের পূজা করি। নন্দ মহারাজ একটু চিন্তা করে দেখলেন যে, তাইতো, আমরা ভাবছি ইন্দ্রকে পূজা করার ফলে বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু অনেক জায়গায় তো ইন্দ্রপূজা হয় না, সেখানেও তো বৃষ্টি হয়। তাই নন্দ মহারাজ এবং অন্যরা সকলে মিলে ইন্দ্রপূজার যে আয়োজন করেছিলেন, তা নিয়ে গোবর্ধন পূজা করতে চললেন। সমস্ত উপহারগুলোকে জড়ো করা হলো, সেটা একটা পাহাড়ের রূপ ধারণ করলো। অন্নকূট, অন্নের পাহাড়। যত রকমের সবজি রান্না করা হয়েছিল সেগুলো দিয়ে সাজানো হলো। তারপর সেই পাহাড়ের ওপর এত পরিমাণ ঘি দেওয়া হলোে যেন একটা ছোট নদী। এইভাবে অন্নকূট বা অন্নের পাহাড়টি গোবর্ধনকে নিবেদন করা হলো। তখন, কৃষ্ণ বিশাল গোবর্ধন রূপ ধারণ করে সমস্তটাই আহার করলেন। এরকমও উল্লেখ আছে যে, কখনো কখনো ঐ গোবর্ধন কৃষ্ণ বলছেন আরো নিয়ে এসো, আমার আরো লাগবে। তখন সকল গোপেরা আরো অনেক খাবার নিয়ে এসে গোবর্ধনরূপী কৃষ্ণকে দিচ্ছে। এভাবে ভোজন শেষ হলে গোবর্ধনের ঝর্ণা থেকে জল খেয়ে কৃষ্ণ ঢেকুর তুললেন। এভাবে তাঁর ভোজন সমাপ্ত হলো। এভাবেই গোবর্ধন পূজা ও অন্নকূট মহোৎসবের সূচনা হলো। পরবর্তীকালে শ্রীল মাধবেন্দ্র পুরী গোপাল বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে আবার অন্নকূট মহোৎসব চালু করেন। দামোদর মাসে ভক্তগণ সাতদিন ধরে অন্নকূট মহোৎসব পালন করেন।
I found this article super helpful. Looking forward to reading more
from this site.