দীপাবলি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বিশেষ উৎসব। এই উৎসবটি কেবল ভারতবর্ষেই নয়, যে স্থানে এখনও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাস করছেন সেখানেও মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মায়নমার, মরিশাস, গায়ানা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, সুরিনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিজিতে এটি সরকারি ছুটির দিন। বাংলা, আসাম, উড়িষ্যা ও মিথিলায় এদিনে কালীপূজা হয়ে থাকে। অন্যান্য স্থানে এদিনটিতে লক্ষ্মীদেবীর অর্চনা হয়। দীপাবলি নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি দীপদানের উৎসব। কিন্তু দীপাবলির ইতিহাস ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারণা প্রয়োজন।
ত্রেতাযুগে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীরামচন্দ্র এ জগতে অবতীর্ণ হয়ে চৌদ্দ বছর বনবাস এবং রাবণের সাথে যুদ্ধলীলা করেন। শ্রীরামচন্দ্রের চৌদ্দ বছরের দীর্ঘ বিরহ অযোধ্যার প্রজাগণ সহন করতে পারছিলেন না। কিন্তু রামচন্দ্র পিতৃসত্য পালনে ছিলেন অটল। এভাবে চৌদ্দ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলে রামচন্দ্র যখন সীতাসহ লঙ্কা হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তিনি তাঁর আগমনবার্তা জানাতে হনুমানকে ভরতের নিকট প্রেরণ করেন।রামচন্দ্রের আগমনবার্তা জেনে ভরত সমগ্র নগরে উৎসবের ঘোষণা দিলেন, শ্রীরঘুনাথ আজ আগমন করছেন, অতএব আজ প্রত্যেক ঘরে ঘরে উৎসব হোক। সমগ্র নগর ধূলিমুক্ত করে চন্দন ও অগুরু জল দিয়ে সিক্ত করা হলো। ফুল দিয়ে সজ্জিত হলো, ধ্বজা উত্তোলিত হলা, হাতি, ঘোড়া, গাভীদের সুন্দর করে সাজানো হলো, সবকিছুই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল। এদিন রামচন্দ্রের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সমগ্র নগরী এত প্রদীপ দিয়ে সুসজ্জিত করা হলো যে, এমনকি উচ্চতর গ্রহলোক থেকেও এ প্রদীপের দ্যুতি দেখা যাচ্ছিল। এদিন থেকেই দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়।
No Comment! Be the first one.