শ্রীধাম মায়াপুরের জগন্নাথ মন্দিরে একবার এক লোক এসেছিল। পূজারি তাকে প্রসাদ দিলে সে ফেলে দিয়েছিল। তখন পূজারি তাকে বলেছিল যে, যদি সে শ্রীবিগ্রহে বিশ্বাস না করে তাহলে তার সেখান গিয়ে অপরাধী হওয়ার প্রয়োজন নেই।
পরদিন সেই ব্যক্তি আবার মন্দিরে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করল, তারপর সে পূজারির কাছে দৌঁড়ে গিয়ে প্রসাদ চাইল। পূজারি তার আচরণে ব্যথিত ও বিভ্রান্ত হলেন। মুসলমান লোকটি তখন বলতে লাগল, আমি স্বপ্নে তিন জনকে দেখেছি। সাদা বর্ণের একজন আমাকে বলছেন, (সে তাঁদের নাম জানত না) আমার ভাইয়ের প্রসাদ ফেলে দিয়েছিস এবং হলুদ বর্ণের এক নারী (সুভদ্রা) বলছেন, তাকে ধর আর কালো বর্ণের একজন বলছেন (জগন্নাথ দেব), না তাকে এবারের মতো ছেড়ে দাও। পরের বার আমরা তাকে দেখব।
বুলগেরিয়াতে একবার ভক্তরা জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারাণীর বিগ্রহের জন্য কাঠের পাদুকা তৈরি করেছিলেন। যেকোনোভাবেই হোক তাঁরা সুভদ্রা মহারাণীকে যে পাদুকা জোড়া দিয়েছিলেন, তার দুটিই ছিল বাম পায়ের। পরদিন রাত্রে ভক্তদের একজন স্বপ্নে দেখেন, সুভদ্রা মহারাণী আবির্ভূত হয়ে বলছেন, তোমরা করেছ কী ? আমি আমার দুই ভাইয়ের সাথে হাঁটতে পারছি না। ভক্তটি তার স্বপ্নকে অবহেলা করলেন এবং স্বপ্নের কথার বিষয়ে চুপচাপ থাকলেন।
কিছুদিন পর সুভদ্রা মহারাণী পুনরায় স্বপ্নে এসে তাকে হয়ে বলছিলেন, আমার দুই ভাই দৌড়ানোর সময় আমি তাদের সাথে সাথে যেতে পারছি না। এবার পূজারি অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা বললেন। মন্দিরের অধ্যক্ষ অবাক হয়ে বললেন, তুমি আগে কেন এ কথা বলনি ? ভক্তটি অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে বললেন যে, তিনি মনে করেছিলেন তা শুধু বুঝি একটি স্বপ্ন ছিল।
ভক্তরা সবাই তখন মন্দিরের পূজার বেদী পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারলেন প্রকৃতপক্ষে সুভদ্রা মহারাণীর পাদুকা জোড়ার দু’টিই ছিল বাম পাদুকা। ভক্তরা অতি দ্রুত সুভদ্রা মহারাণীর জন্য একজোড়া পাদুকার ব্যবস্থা করলেন। এরপর থেকে কেউ পাদুকার সমস্যা নিয়ে আর কোনো স্বপ্ন দেখেন নি।
No Comment! Be the first one.