অনেক সময় কেউ একটু জ্ঞান অর্জন করলেই খুব গর্ববোধ করে। কখনও কখনও সামান্য ধন লাভ করলেই কেউ কেউ খুব গর্ববোধ করে। সে ভাবে কোনো ভক্ত তাকে বিরক্ত করতে পারবে না।একদিন একটি ব্যাঙ লাফিয়ে পুকুরের পাড়ে আসে এবং একটি পয়সা পায়। তা ছিল পঞ্চাশ পয়সার একটি মুদ্রা, মানে আট আনা। অনেক আগের ঘটনা এটি, তখন আট আনারই অনেক মূল্য। সম্ভবত সেই আট আনা বর্তমানের পঞ্চাশ রূপির চেয়েও অধিক মূল্যবান ছিল। যদিও বর্তমানে এই পরিমাণ রুপি এত মূল্যবান নয়। এ কারণেই ব্যাঙটি ভাবত, এখন আমি এই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যাঙ ! আমার মতো এত সম্পদ আর কোনো ব্যাঙের আছে ? আপনি কি কখনও কোনো সম্পদশালী ব্যাঙ দেখেছেন ? তা্ি িসে ছিল খুব গর্বিত। সে সেই পঞ্চাশ পয়সার উপরে বসে ডাকাডাকি করত। আর ভাবত, এখন তো আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যাঙ হয়েছি, আমি কাউকে ভয় পাই না, কারণ আমার অনেক সম্পদ আছে। আমি এবার হাতিকে একটা শিক্ষা দেবো !
প্রতিদিন রাজার হাতিটি পুকুরে স্নান করতে নেমে আমাদের ব্যাঙগুলোকেও অনেক বিরক্ত করে। সে সত্যি সত্যি আমাদের মূল্যায়ন করে না, বরং অবজ্ঞা করে। এখন আমি যেহেতু শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যাঙ তাই হাতির এই স্বেচ্ছাচারিতা এবং পুকুরে আমাদের বিরক্ত করা তার বন্ধ করব ! সকালে মাহুত যখন স্নান করানোর জন্য হাতিকে নিয়ে রাজপুকুরে এসেছে, তখন ব্যাঙটি পঞ্চাশ পয়সার উপর বসে চিৎকার করে হাতিকে বলতে থাকে, থামো ! হাতির কানে অনেক কষ্টে এই শব্দ পৌঁছালেও সে কোনো মূল্যায়ন করে না। ব্যাঙ এতে ক্রোধান্বিত হয়ে অন্ধের মতো হাতির ওপর ঝাঁপ দেয় কিন্তু হাতির পায়ে লেগে পায়ের সামনে পড়ে যায়। আর হাতির পরবর্তী পদক্ষেপেই ব্যাঙ পদদলিত হয়ে ফেটে যায়….ফটাস !! এখানেই গল্পের সমাপ্তি।
গল্পটির উপদেশ হচ্ছে, জাগতিকভাবে সম্পদশালী হয়ে আমাদের কখনোই গর্ব করা উচিত নয়। এই জড়জগতে মানুষ যখন সামান্য সম্পদ লাভ করে, তখন সে খুবই গর্বিত হয় এবং অহংকারে মত্ত হয়ে সবকিছু করে কিন্তু সে ভুলে যায় যে, এই জীবনটি ক্ষণস্থায়ী। সর্বোপরি যত শক্তিই থাকুক না কেন, মৃত্যুর হাত থেকে তা আমাদের রক্ষা করতে পারবে না।
সর্বস্তরেই আনন্দ:
সবাই আনন্দ চায়। সমস্ত জগৎ আনন্দ খুঁজছে কিন্তু আনন্দের ভিন্ন ভিন্ন স্তর আছে- শারীরিক সুখ, মানসিক শান্তি ও পারমার্থিক আনন্দ। কেউ যদি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকেন, তাহলে তিনি শারীরিকভাবে আনন্দিন হন, তাহলে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবেও সুখী হবেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ, কেউ যদি মানসিকভাবে সুস্থ না হয়, তবে তাকে খুব সুস্বাদু খাবার দেয়া হলেও সে তা খেতে পারবে না। কারণ সে হতে পারে কাউকে ভালোবাসার ফলে দুঃখাহত। তাই আত্মীয়দের মঙ্গলের জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের তীব্র যন্ত্রণা শারীরিক সুখ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। আমি যখন ডারবান সমুদ্রসৈকতে হাঁটছিলাম তখন দেখতে পাই, অনেক লোক সুখ বিক্রির চেষ্টা করছে কিন্তু তারা যে সুখ দেওয়ার চেষ্টা করছে, তার কিছু কেবল জিহ্বার জন্য, কিছু স্পর্শেন্দ্রিয়ের জন্য, কিছু কান কিংবা চোখের জন্য- সবাই কৃত্রিম সুখ। আমরা সব স্তরের জন্যই সুখ বা আনন্দ সরবরাহের চেষ্টা করছি। আমাদেরও খাবার আছে যা জিহ্বা বা উদরের জন্য কিন্তু একই সাথে তা আত্মারও। আমাদের কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে, যেমন- নৃত্য, নাটক, সঙ্গীত ও আরো অনেক কিছু, তা দেখে যেমন আনন্দ পাওয়া যায় তেমনি পারমার্থিকভাবেও তৃপ্তি লাভ করা যায় যেহেতু তা কৃষ্ণকেন্দ্রিক।
প্রকৃত সুখের স্বাদ নিনঃ
আমরা প্রায় সকলেই দেখেছি, কিভাবে মৃত্যুশয্যায় থাকা রোগীও বলে, আজ একটু ভাল লাগছে। কেননা তার বিগত দিনের চেয়ে একটু কম ব্যথা আছে। এটাই হচ্ছে জাগতিক সুখের স্বরূপ। শ্রীল প্রভুপাদ এই উদাহরণটি প্রায়ই উদ্ধৃত করতেন। এ থেকেই বোঝা যায় যে, জড় জগতে প্রকৃত শান্তি অসম্ভব; এখানে শান্তি হচ্ছে দুঃখ-ভোগ থেকে ক্ষণিক নিবৃত্তি। একেই আমরা সুখ বলে ভুল করে থাকি। প্রকৃত সুখ কোন জাগতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল থাকে না। আর এটা একমাত্র কৃষ্ণভাবনার মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব। জড় জগৎ ও চিন্ময় জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, কোনো সাধারণ কথা নয়। এটা ভগবানের কৃপাতেই লাভ করা যায়।
[…] সেটা মৃত্যুতে পর্যবসিত হয়। ভক্তদের মৃত্যুবরণ করতে হলেও মৃত্যুর পর সে শুধুমাত্র […]
wish you all the best
What happend i dont know
wish you best and best