আপনি কি সত্যিই মনে করেন, আপনি দেহ নন ?
আমরা সকলেই বহুবার শুনেছি, প্রভুপাদ বলতেন, তোমরা এই দেহ নও। আমরা মনে করি, ও তাই, এ তো আমি আগেই শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে কি আমরা তা উপলব্দি করতে পারি ? আমরা এখনও ভাবছি, আমরা এই দেহ। মনে করছি, আমরা ভারতীয়, আমরা আমেরিকান, আমরা কানাডিয়ান বা অস্ট্রেলিয়ান ইত্যাদি। ভাবছি আমরা সুন্দর বা কুৎসিৎ। সর্বদাই দেহাত্মবুদ্ধি নিয়ে কারো পরিচয় শনাক্ত করছি। অনেকবার এ কথা শুনেছি কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক আমাদের এই উপলব্ধিটা হয় না। এ কারণেই প্রভুপাদ একথাটি বার বার বলেছেন। আমরা এই দেহ নই বলতে আসলে কী বোঝায় ? প্রকৃতপক্ষে আমরা হচ্ছি দেহমধ্যস্থ চিন্ময় আত্মা। যখন এই চিন্ময় আত্মা দেহ ত্যাগ করে চলে যায় তখন দেহের মৃত্যু ঘটে। আমরা যদি বার বার কোনো কিছু শ্রবণ করি, তাহলে মনে হতে পারে, আমি কেন এটি বার বার শুনছি ? নিশ্চয়ই এর মধ্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু রয়েছে, যা থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।
কীভাবে নির্ভীক ও উৎকণ্ঠামুক্ত হওয়া যায় ?
আমরা যদি উপলব্ধি করতে পারি যে, আমরা এই দেহ থেকে ভিন্ন, আমরা প্রকৃতপক্ষে দেহের জীবনীশক্তি, যার কোনো ধ্বংস নেই। তাহলেই আমরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উৎকণ্ঠা থেকে মুক্ত হতে পারি। আমাদের আর মৃত্যু ভয়ে ভীত হতে হবে না। আত্মা অবিনশ্বর।
স্বপ্ন থেকে জেগে উঠুন এবং নিজের স্বরূপ শনাক্ত করুনঃ
স্বপ্নে আমরা বিভিন্ন দেহ ধারণ করি। স্বপ্নে আমরা নিজেদের রাজা বা হতদরিদ্র কিংবা নারী ইত্যাদি বিভিন্ন অবস্থায় দেখি এবং স্বপ্নে আমরা সে রূপকেই নিজের মনে করি, এটাই আমি। জেগে উঠে বুঝতে পারি, তা আসলে একটি স্বপ্ন এবং স্বপ্নের সেই ক্ষণস্থায়ী দেহ অদৃশ্য হয়ে যায়। একইভাবে জড়া প্রকৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমরা একটি নির্দিষ্ট দেহ লাভ করেছি এবং ভাবছি আমরা এই দেহ। এটাই আমার স্বরূপ কিন্তু যখন আমরা বাস্তবেই জেগে উঠব, তখন আমাদের প্রকৃত স্বরূপ সম্বন্ধে অবগত হবো। তখন জানতে পারব, এই ক্ষণস্থায়ী দেহ আমাদের প্রকৃত স্বরূপ নয়। আমাদের স্বপ্ন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। আমরা এক রাতে পাঁচ, ছয় কিংবা সাত ঘন্টা ঘুমাই। আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী দেহ সর্বোচ্চ শত বছর বা পঞ্চাশ বা সত্তর বছর স্থায়ী হয়। তাই আপেক্ষিকভাবে সেই দেহকে আরও অধিক বাস্তব বলে মনে হয়। স্বপ্ন প্রায়শই পরিবর্তিত হতে পারে। আমাদের প্রকৃত স্বরূপের কাছে আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জড় দেহের স্থায়িত্বকাল আলোর ঝলকের মতো, খুবই অল্প সময়। এভাবেই তথাকথিত এই বাস্তবতাকে স্বপ্নের সাথে তুলনা করা হয়। আমরা স্বপ্নে যা দেখি তাকে বাস্তব বলে মনে হয়। ভালো ও মন্দ স্বপ্নের ওপর নির্ভর করে আমরা সুখ, দুঃখ, আনন্দ, উৎকণ্ঠা বা ভীতির অভিজ্ঞতা লাভ করি।
জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার শুদ্ধ সম্পর্কঃ
জড়-জাগতিক সম্পর্ক শুধুমাত্র ব্যাষ্টিক বা সামষ্টিক ইন্দ্রিয় তর্পণের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এ কারণে এসব অনিত্য সম্পর্কের কোন স্থায়ী মূল্য নেই কিন্তু জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার সম্পর্ক শুদ্ধ, নিত্য এবং পূর্ণানন্দময়। ভ্রমাত্মক জাগতিক সম্পর্কে এই আনন্দ কখনো পাওয়া যাবে না। শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, আমরা যেন কামনা-বাসনার ফাঁদে পড়ে পথভ্রষ্ট না হই। যদি আমরা জড় বাসনায় মগ্ন হয়ে কৃষ্ণকে ভুলে যাই, তবে ইন্দ্রিয় তর্পণের জন্য ধাবিত হয়ে জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ব।
ছায়া দেখে বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করুনঃ
জড়জগৎ ছায়া সদৃশ। আলোর বিপরীতে আমাদের হাত ধরলেই আমরা ছায়া অবলোকন করতে পারব কিন্তু ছায়াতে আমরা শুধু হাতের মতো একটা আকৃতিই দেখতে পাব; সেখানে হাতের চামড়া, লোম কিংবা হাতের ছাপ প্রভৃতি দেখতে পাব না। এটা শুধুমাত্র অস্পষ্ট রূপ। তেমনি এই জড়জগতে আমরা সেবাবৃত্তি, বন্ধুত্ব, স্নেহ, প্রেম, ভালোবাসা প্রভৃতি দেখতে পাই কিন্তু সেগুলো শুধুমাত্র প্রকৃত স্বরূপের ছায়া। যেমন হাতেরও অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। তেমনি চিন্ময় জগতে গুণাবলিরও বৈচিত্র্য রয়েছে, সে সকল গুণও আবার পূর্ণরূপে বিস্তৃত। তাতে কোনোরকম অপূর্ণতা নেই। যেহেতু ভগবান এবং তাঁর ভক্তরা নিত্য ও সমস্ত জড়গুণ থেকে মুক্ত, তাই তাঁদের সম্পর্ক অপ্রাকৃত ও যথার্থ।
[…] আর কোনো ব্যাঙের আছে ? আপনি কি কখনও কোনো সম্পদশালী ব্যাঙ দেখেছেন ? তা্ি িসে ছিল খুব […]