
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কর্তৃক স্বীকৃত সম্প্রদায় সমূহ
গুরুদেব যে বিশেষ পরম্পরার অন্তর্ভুক্ত, তাকে বলা হয় তার সম্প্রদায়। পদ্মপুরাণে সম্প্রদায় সম্পর্কে বলা হয়েছে- সম্প্রদায়বিহীনা যে মন্ত্রান্তে নিস্ফলা মতাঃ। অতঃকলৌ ভবিষ্যন্তি চত্বারঃ সম্প্রদায়িনঃ।। শ্রীব্রহ্ম রুদ্র সনক বৈষ্ণব ক্ষিতিপাবন। চত্বারস্তে কলৌ ভব্য হি উৎকলে পুরুষোত্তম।। অর্থাৎ “ যে ব্যক্তি যথার্থ সম্প্রদায় বা গুরু-পরম্পরা হতে বিযুক্ত, সে যে মন্ত্রই জপ করুক

বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে উদ্ধত গুরুতত্ত্ব
শ্রীগৌতমীয়তন্ত্রে (৭ম অধ্যায়) গুরুতত্ত্ব বলা হয়েছে- ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া। চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।। যিনি অজ্ঞানরূপ অন্ধকারে আচ্ছন্ন জীবের অন্ধকার নাশ করে আলোকরূপ জ্ঞান প্রদান করেন, তিনিই গুরু। গুরুদেব ভগবানের কৃপাশক্তির মূর্ত বিগ্রহ। জীবের প্রতি বিশেষ করুণার ফলে ভগবান গুরুরূপে অবতীর্ণ হন। গুরুদেব শিষ্যকে সম্বন্ধ জ্ঞান দান করেন। শ্রীমদ্ভাগবতে (১১/৩/২১)

জ্ঞান লাভের পন্থা
জ্ঞান লাভের পন্থা দুটি- ১) আরোহ ২) অবরোহ ১) আরোহ পন্থা- হচ্ছে কোনো প্রামাণিক অস্তিত্বের স্বীকার না করে নিজের প্রচেষ্টায় অনুমানের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা। যেমন: পিতার পরিচয় মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা। ২) অবরোহ পন্থা- হচ্ছে প্রামাণিক অস্তিত্ব স্বীকার করে শ্রবণের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা। যেমন: পিতার

ভগবৎ তত্ত্বজ্ঞান কোথা থেকে লাভ করা যায়?
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা হয়েছে- “শ্রুতির্মাতা পৃষ্টা দিশতি ভবদারাধনবিধিং” অর্থাৎ শ্রুতিসমূহ হচ্ছে মানবের মাতা। ভগবৎ তত্ত্বজ্ঞান আমরা যেমন মায়ের কাছ থেকে আমাদের পিতার পরিচয় জানতে পারি, ঠিক তেমনি শ্রুতি বা বৈদিক শাস্ত্ররূপ মাতার মাধ্যমে আমাদের পরম পিতার পরিচয় জানতে পারি। বৈদিক শাস্ত্রসমূহ কোনো ব্যক্তিবিশেষের রচিত সাহিত্যকর্ম নয় যে, তা ব্যক্তির মনোধর্মপ্রসূত

সনাতন ধর্মের মূল গ্রন্থসমূহ ও মন্ত্র সংখ্যা
বেদ ৪ টি- মন্ত্র সংখ্যা- ২০,৪৩৪ টি সনাতন ধর্মের মূল গ্রন্থ ১) ঋগবেদ- মন্ত্র সংখ্যা- ১০,৫৮৯ টি। ২) সামবেদ- মন্ত্র সংখ্যা- ১,৮৯৩ টি। ৩) যজুবেদ- মন্ত্র সংখ্যা- ১,৯৭৫ টি। ৪) অথর্ববেদ- মন্ত্র সংখ্যা- ৫,৯৭৭ টি। উপবেদ ৪ টি ১) আয়ুর্বেদ, ২) ধনুর্বেদ, ৩) গন্ধর্ববেদ, ৪) অর্থশাস্ত্র। বেদাঙ্গ- ৬ টি ১)

তিথিভেদে আহারে নিষিদ্ধ
তিথিভেদে ভক্ষণ নিষেধঃ আহারে নিষিদ্ধ প্রতিপদে- কুষ্মান্ড, দ্বিতীয়াতে- বৃহতী (একরূপ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেগুন), তৃতীয়াতে- পটোল, চতুর্থীতে- মূলা, পঞ্চমীতে- বিল্ব, ষষ্ঠীতে- নিম্ব, সপ্তমীতে- তাল, অষ্টমীতে- নারিকেল, নবমীতে- অলাবু, দশমীতে- কলম্বীশাক, একাদশীতে- শিম, দ্বাদশীতে- পূতিকা, ত্রয়োদশীতে- বার্ত্তাকু, চতুর্দ্দশীতে- মাষকলাই এবং পূর্ণিমা ও অমাবস্যায়- তৈল-মাৎস্য-মাংসাদি ভক্ষণ নিষেধ।

সনাতন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধিনিষেধ
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে সনাতনধর্মে ক্ষৌরবিধি নিম্নরূপঃ রবিবারে ক্ষৌরর্কা্য্যে- ধনহানি মঙ্গলবারে ক্ষৌরর্কা্য্যে- আয়ুক্ষয় বৃহস্পতিবারে ক্ষৌরর্কা্য্যে- মানহানি শুক্রবারে ক্ষৌরর্কা্য্যে- শুক্রক্ষয় শনিবারে ক্ষৌরর্কা্য্যে- মানহানি হয়, কিন্তু সামবেদের মঙ্গলবারে, ঋগবেদে বৃহস্পতিবারে ও যজুবেদে শুক্রবারে ক্ষৌরকার্য্য বিহিত আছে। অশৌচান্তাদি কারণে নিষিদ্ধ দিনেও ক্ষৌরকার্ষ্যে কোন বাধা নাই। নাপিতের বাড়ী গিয়া ক্ষৌরকার্য্য করিতে নাই। এই নিয়মগুলি মানিয়া

পক্ষ এবং তিথি কয়টি ও কি কি?
পক্ষ- ২টি ১) শুক্লপক্ষ ২) কৃষ্ণপক্ষ তিথি- ১৫টি শুক্লপক্ষ তিথিঃ ১) প্রতিপদ, ২) দ্বিতীয়া, ৩) তৃতীয়া, ৪) চতুর্থী, ৫) পঞ্চমী, ৬) ষষ্ঠী, ৭) সপ্তমী, ৮) অষ্টমী, ৯) নবমী, ১০) দশমী, ১১) একাদশী, ১২) দ্বাদশী, ১৩) ত্রয়োদশী, ১৪) চতুর্দ্দশী, ১৫) পূর্ণিমা। কৃষ্ণপক্ষ তিথিঃ ১) প্রতিপদ, ২) দ্বিতীয়া, ৩) তৃতীয়া, ৪)

নক্ষত্র কয়টি ও কি কি?
এক এক দিনে এক একটি করে নক্ষত্র হয়, এরকম নক্ষত্রের সংখ্যা ২৭টি। যাহা নিম্নরূপঃ ১. অশ্বিনী, ২. ভরণী, ৩. কৃত্তিকা, ৪. রেহিনী, ৫. মৃগশিরা, ৬. আর্দ্রা, ৭. পুনর্ব্বসু, ৮. পুষ্যা, ৯. অশ্লেষা, ১০. মঘা, ১১. পূর্ব্বফল্গুনী, ১২. উত্তরফল্গুনী, ১৩. হস্তা, ১৪. চিত্রা, ১৫. স্বাতী, ১৬. বিশাখা, ১৭. অনুরাধা, ১৮. জ্যেষ্ঠা,

শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট
কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ। অতএব মায়া তারে দেয় সংসারদুঃখ।। শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই মায়া তাকে এ জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণ আদি শাস্তগ্রন্থাবলী দান করেছেন। ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার