পদ্মপুরাণ ব্রহ্মখণ্ড বিংশ অধ্যায়ে, সূত-শৌনক সংবাদে বর্ণিত আছে- পুরাকালে ত্রেতাযুগে শংকর নামে সৌরাষ্ট্রদেশবাসী এক বৃষল (শূদ্র) ছিল। তার স্ত্রীর নাম কলিপ্রিয়া। সে তার স্বামীকে অযোগ্য ভেবে পরপুরুষাকাঙ্খিনী হয়ে সবসময় স্বামীকে উচ্ছিষ্ট দিত। মহামূঢ় ও নীচসঙ্গবশত মদ্য-মাংস খেয়ে স্বামীকে তিরষ্কার করত। ও মরে না কেন? ও মরলে আমি যথেচ্ছা ভোগ করব, এরকম বলত। একদিন সেই নিষ্ঠুরা তলোয়ার দিয়ে স্বামীর শিরোচ্ছেদ করে কোনো পরপুরুষের সাথে মিলিত হতে নির্জন স্থানে যায়। কিন্তু বিধি বাম। সেখানে গিয়ে দেখল তার নগরকে বাঘে খেয়ে ফেলছে, এই ভয়ানক ও করুণ দৃশ্য দেখে সে রোদন করতে করতে মূর্চ্ছা গেল। সেই মূঢ়া কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, হায় ! হায়! আমি স্বামীকে হত্যা করে পরপুরুষের জন্য এলাম কিন্তু তাকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে। এখন কী করব ! কোথায় যাব ! বিধাতা আমাকে বঞ্চনা করলেন। তারপর কলিপ্রিয়া স্বগৃহে ফিরে বিলাপ করতে লাগল- হে নাথ ! আমি কী নিদারুণ কর্মই করেছি ! কোন লোকেই বা যাব ! হে স্বামী, একটিবার কথা বলো। আমি তোমাকে কতইনা ভৎসনা করেছি কিন্তু তুমি আমার যেন কোনো অপরাধ নেই এমনভাবে ব্যবহার করেছ।
এভাবে বিলাপ করে সেই ভ্রষ্টা পতিচরণে প্রণাম করে নগর ত্যাগ করল। সে প্রাতে নর্মদায় স্নান করার সময় বহুপুণ্যফলে বৈষ্ণবগণকে দেখতে পেল। আরো শঙ্খনাদ মহোৎসব সহকারে ভক্তিযুক্তচিত্তে রাধাদামোদরের পূজা করছে। তা দেখে বিনীতভাবে সে জিজ্ঞেস করল- হে স্ত্রীগণ, তোমরা কি করছ ? স্ত্রীগণ বলল, হে মাতঃ সর্বমাসোত্তম শুভ কার্তিকমাসে রাধাদামোদরকে পূজা করছি। এতে কোটিজন্মার্জিত পাপ বিনষ্ট হয়ে যাবে। একথা শুনে কলিপ্রিয়া বলল, আমিও তোমাদের সাথে ঐরকম পূজা করব। সেও স্ত্রীগণের সঙ্গে পূজা করল এবং নির্মলা হয়ে পূর্ণিমাতে মারা গেল। তখন যমকিঙ্করগণ এসে ক্রোধে চর্মরজ্জু দ্বারা তাকে বন্ধন করল। তখন স্বর্ণময় বিমানে বিষ্ণুদূতগণ এসে তাদের প্রহার করতে লাগল। সেই প্রহারে যমদূতগণ পলায়ন করল। অতঃপর সেই নারী বিমানে আরূঢ় বিষ্ণুদূতগণ বেষ্টিতা হয়ে বিষ্ণুমন্দিরে গমন করল। যে নারী বা পুরুষ কার্তিকে রাধাদামোদরের অর্চন করে, সে পাপমুক্ত হয়ে গোলাকাখ্য মনোহর ধামে গমন করে। ভক্তিসহকারে সমাহিত হয়ে যে নর বা নারী এই কাহিনী শ্রবণ করে, তার কোটিজন্মার্জিত পাপ বিনষ্ট হয়।
No Comment! Be the first one.