পূজ্যপাদ শ্রীজননিবাস প্রভু ও শ্রীপঙ্কজাঙ্ঘি প্রভুর সনিষ্ঠ পৌরোহিত্যে মন্দিরে পশ্চিমমুখী শ্রীনৃসিংহদেব নিত্য ৬৪ উপাচারে সেবিত হচ্ছেন। এই নৃসিংহদেব অষ্টভুজ সমন্বিত। সম্মুখ দিকে নখ দিয়ে হিরণ্যকশিপুর শরীর ছিঁড়ে ফেলবার জন্য উদ্যত দুটি হাত, নিম্নদিকে দুই হাতে ঢাল ও তলোয়ার রয়েছে। বাকী চার হাতে পদ্ম, চক্র, শঙ্খ ও গদা বিরাজিত। সিংহের মতো করাল বদনে বড় বড় দাঁত। মুখমণ্ডল কেশর দ্বারা শেভিত। রক্তচক্ষু বিশিষ্ট মুখ। অনন্তদেব ছত্রাকারে তাঁর পশ্চাৎভাগে বিরাজ করছেন। সন্নিকটে প্রহ্লাদ মহারাজ করজোড়ে নৃসিংদেবের বন্দনা করছেন।
শ্রীনৃসিংহদেবের গলায় পবিত্র রেশম সুতোর মালা, আজানুলম্বিত তুলসী-মঞ্জরীর মালা, ফুলের মালা, মস্তকের মুকুট থেকে দুইদিক বাহুপ্রান্ত বরাবর ঝোলানো বড় আকৃতির মালা থাকে।
শ্রীনৃসিংহদেবের বেদীতে বহু রকমের শালগ্রামও পূজিত হচ্ছেন। সর্ববৃহৎ শালগ্রামটি শ্রীনৃসিংহ শালগ্রাম।
প্রতিদিন যথারীতি ভোগনিবেদন ও আরতি-কীর্তন হয়। প্রতিদিন দেখা যায় নৃসিংহদেবকে ফল-ফুল ভোগ নিবেদন করার জন্য লোক সমবেত হয়।
শ্রীনৃসিংহ-কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে সমবেত সমস্ত ভক্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। পূজারী তখন শ্রীনৃসিংহদেবের চরণাশিস দান করেন। একটি টোপর আকৃতির আসনে শ্রীনৃসিংহদেবের পাদুকা থাকে। সেই পাদুকা সমন্বিত টোপরটি মাথায় স্পর্শ করানো হয়। সারিবদ্ধভাবে একে একে সবাই প্রসাদী ফুল, চরণ-তুলসী এবং চরণামৃত গ্রহণ করেন।
প্রায়ই দেখা যায় ভক্তরা শ্রীনৃসিংহদেবের কবচ সংগ্রহ করে কণ্ঠীমালার সঙ্গে পরিধান করেন।
শ্রীনৃসিংহ আবির্ভাব তিথি বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশীতে শ্রীনৃসিংহদেবের মহা অভিষেক অনুষ্ঠানে অগণিত লোকের সমাগম ঘটে।
No Comment! Be the first one.