শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের উপদেশামৃতঃ
# সম্বন্ধ জ্ঞানহীন ব্যক্তিগণ কোন প্রকারেই শুদ্ধ-বৈষ্ণব হইতে পারে না।
# সাধুদিগের সংসার ও মায়ামুগ্ধ জীবের সংসারে বিশেষ ভেদ আছে; সংসার বাহিরে দেখিতে একই রকম কিন্তু ভিতরে যথেষ্ট ভেদ।
# এ জগতে যা কিছু মঙ্গল সাধন হইবে, তাহা কেবল ভক্ত-কর্ত্তৃকই হইবে।
# ভক্ত সেবাই গৃহস্থের প্রধান কর্ম। গৃহস্থ বৈষ্ণবের সাধুসঙ্গে বিশেষ যত্ন থাকা চাই।
# কেবল বাগ্নিতা থাকিলেই কেহ গৌর শিক্ষা প্রচারক হইতে পারে না।
# বৈষ্ণব কৃপা ব্যতীত বৈষ্ণব হওয়া যায় না।
# সকল কার্য্যে সরল থাকিব- হৃদয়ে এক ব্যবহারে অন্য এই রূপ হইবে না।
# কৃষ্ণভজন করিতে হইলে প্রথমে সাধু চরিত্র হওয়া চাই।
# অপরাধ পরিত্যাগের সহিত যত্ন-সহকারে নাম করিলে অল্পদিনের মধ্যেই নাম সুখকর বোধ হয়।
# সাধুর নিকট যাইয়া প্রীতি সহকারে তাঁহার সহিত ভগবত কথার আলোচনাই সাধুসঙ্গ, তাহাতেই ভক্তি লাভ হয়।
শ্রীল গৌর কিশোর দাস বাবাজীর উপদেশামৃতঃ
# তুমি যদি বাঁচতে চাও, তবে বৈষ্ণব নিন্দা করবে না। তৃণাদপি সুনীচ হয়ে দিনরাত হরিনাম কর। সবার আগে বৈষ্ণব অপরাধ ছাড়ো।
# যার হরিভজনের ইচ্ছা আছে, সে যেন অসতসঙ্গ না করে। সতসঙ্গের অভিনয় করে গোপনে গোপনে ধর্মধ্বজিদের দুঃসঙ্গ করব, যারা এ রকম বিচার পোষণ করে তাদের অনর্থ আরও বেড়ে যাবে। কপটতা করে আমারই চোখের সামনে হাজার লোকের অমঙ্গল হতে আমি দেখেছি। বহু কষ্ঠ সহ্য করে নিরন্তর সাধুসঙ্গে থেকে শ্রবণ-কীর্তন করলে তবে হরিনামের সেবা রক্ষা করা যায়।
# আমি দেখেছি। বহু কষ্ঠ সহ্য করে নিরন্তর সাধুসঙ্গে থেকে শ্রবণ-কীর্তন করলে তবে হরিনামের সেবা রক্ষা করা যায়।
# হরিভজনে যার অকপট মতি রতি হয়েছে বিরক্তি (বৈরাগ্য) তাঁকে আশ্রয় করবার জন্য অবসর খোঁজে। আমরা লোককে ভাব দেখাব না। এমন আচরণ করব যাতে অন্তরে হরিভজনের অনুরাগ বাড়ে। হরিতে আন্তরিক অনুরাগ না থাকলে বাইরে অনাসক্তির ভাব দেখালেও কৃষ্ণ তাকে কৃপা করেন না। বরং আরও দূরে সরে থাকেন। অকপট অনুরাগ থাকলে কৃষ্ণ আপনা থেকে অনুরাগী ভক্তের কাছে আসেন।
# লোক স্ত্রীর কটুবাক্য বা আত্মীয়-স্বজনের গালি শুনে প্রাণান্তেও তাদেরকে ত্যাগ করতে চায় না, বরং তাদেরকে প্রসন্ন করে তাদের সেবাতেই নিবিষ্ট হয়। অথচ শুভাকাঙ্খী সাধু যদি একটা শাসনবাক্য বলে তক্ষুনি তাকে জন্মের মতো ত্যাগ করবার সংকল্প করে। যদি প্রকৃত ভজন করতে চাও তবে বৈষ্ণবদের গালিকে মায়া ত্যাগের মন্ত্রৌষধের মতো গ্রহণ করো। তাহলেই হরিনাম গ্রহণ করবার অধিকার লাভ করতে পারবে।
শ্রীল গৌর কিশোর দাস বাবাজীর উপদেশামৃতঃ
# মঠ হরিকীর্ত্তনের কেন্দ্র, হরি কীর্ত্তনই জীবন ও চেতনা; সেখানে যাহাতে কোন প্রকার আলস্য অসদাচার, গ্রাম্য চিন্তা, গ্রাম্য কথা কিংবা ইতর বাসনা বিন্দুমাত্রও স্থান না পায়, এজন্য তোমাদিগকে দ্বারে দ্বারে গিয়া সাধারণের নিকট হরিকীর্ত্তনের পরীক্ষা দিতে হইবে।
# আমি তোমাদের জন্য এক পয়সাও রাখিয়া যাইব না, যাহাতে তোমরা পরবর্ত্তীকালে অলসতার প্রশ্রয় না পাইয়া হরিকীর্ত্তন, হরিসেবা ও সদাচার পূর্ণ জীবন পরিত্যাগ করিতে না পার।
# ঋণ করিয়াও তোমরা ভগবানের কীর্ত্তন প্রচার কর; তাহা হইলে তোমাদিগকে সেই ঋণ পরিশোধ করিবার জন্য আরও অধিকতর সেবায় নিযুক্ত হইতে হইবে।
# জন সাধারণ যখন নিজেকে ভিক্ষা দাতা, আর তোমাদিগকে ভিক্ষা গ্রহীতা মনে করিয়া অর্থাত তোমাগিগের অপেক্ষা তাঁহাদিগের পদবী বড়, তোমরা তাঁহাদের কৃপার পাত্র- এইরূপ বুদ্ধিতে তোমাগিগের নানা প্রকার সমালোচনা করিবে, কেহ কেহ হয়ত অর্ধচন্দ্র-প্রদানেও প্রস্তুত হইবে, তখন তোমরা একদিকে যেমন তৃণাদপি সুনীচেন ও মানদ হইতে পারিবে, অপরদিকে তেমনি নিজেদের জীবন ও চরিত্রকে সর্বদা পবিত্র ও আদর্শ করিবার জন্য যত্নবান হইবে।
# যাঁহারা অন্যাভিলাষ পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র কৃষ্ণের ইন্দ্রিয় তর্পণ অভিলাষে সম্পূর্ণভাবে দীক্ষিত হইতে না পারিবেন, তাঁহাদের কেহ কেহ এ সকল কথা গ্রহণ করিতে না পারিয়া পথভ্রষ্ট হইবেন এবং কৃষ্ণকীর্ত্তন প্রচারের ভিক্ষাকে আত্মেন্দ্রিয় তর্পণের রসদ-সংগ্রহ-কার্য্যের আনুকরণিক উপায়রূপে বরণ করিয়া কেবল বেশোপজীবি ও ভিক্ষোপজীবি হইয়া পড়িবেন।
# অর্থ, চিত্ত, প্রাণ ও মন, বিদ্যা, বুদ্ধি, শরীর- জগতের যাবতীয় উপকরণ অকৈতবে অন্যাভিলাষ রহিত হইয়া ভবনমঙ্গল শ্রীহরি নাম প্রচারের জন্য নিয়োগ করা ও কারনোই জগতের জীবমাত্রের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ উপকার ও কর্তব্য। জগতকে এই শ্রেষ্ঠ উপকারের কথা শিক্ষা দেওয়া ও তাহাতে ব্রতী করাই শ্রী গৌড়ীয় মঠের প্রচারের একমাত্র বিষয়।
# বহু আক্রমণ, বহু প্রতিবাদ, বহু ছল, বহু কুযুক্তি. বহু কুর্তর্কের শতশত পাহাড় পর্ব্বত অতিক্রম করিয়া এই পরম সত্যের বাণী (ভগবানের কথা) একটিমাত্র জীবের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। এই উপকারের কথা বিরাট মানব জাতির মধ্যে একটি লোককেও বুঝাইতে হইলে বহু গ্যালন রক্ত ব্যয় করা আবশ্যক।
# মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন, ভক্তি গ্রন্থের প্রচার ও নাম প্রচারের দ্বারাই (শ্রীনবদ্বীপ) শ্রীমায়াপুরের প্রকৃত সেবা করিতে পারেন।
# তোমরা আমার রম বান্ধব তোমরা অসুবিধায় পতিত হও, লোকের আপাত প্রতিষ্ঠা পাইয়া, আপাত নিন্দার ডালি তোমাদের অপ্রীতিকর ও অসহ্য মনে করিয়া তোমরা ভগবানের ইন্দ্রিয় তর্পনের পথ পরিত্যাগ পূর্ব্বক লোকের ইন্দ্রিয় তর্পণ ও তদ্বারা নিজের ইন্দ্রিয় তর্পণ কর-ইহা আমি কিছুতেই তোমাদিগকে করিতে দিব না। তোমরা যেদিন এই সকল বিচার হইতে স্বতন্ত্র হইবে, সে দিন জানিব, তোমরা প্রকৃত মঙ্গলের পথ পরিত্যাগ করিয়া ভীষণ অমঙ্গলের পথ বরণ করিয়াছ।
# তোমরা যদি হরি কীর্ত্তনের উপায়ন-সংগ্রহের জন্য দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা কার্যে আলস্য কর এবং আলস্যের প্রশ্রয় দিয়া অনর্থযুক্ত অবস্থায় অপরের সমালোচনা হইতে ছুটি পাইবার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যে নির্জ্জন ভজনকে শ্রেয় মনে কর, তাহাতে তোমাদের চরিত্র সংশোধিত হইবে না- তোমরা আচারময় জীবন লাভ করিতে পারিবে না।
No Comment! Be the first one.