# অনেক সময় শিষ্যরা অসতর্কভাবে টাকা খরচ করতেও পারে। ভাবতে পারে- ইসকনে টাকার অভাব কিসের। তাই শ্রীল প্রভুপাদ বলতেন, না তা নয়- এ হল আমার বুকের রক্ত। তাই শিষ্যদের এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক হয়ে কাজ করতে হয় এবং গুরুদেবের নির্দেশ মেনে চলতে হয়। প্রতি পদে পদে আমরা প্রত্যেকেই এখানে শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করে চলেছি, অতএব তাঁর সেই কথাটি আমাদের প্রত্যেকেরই মনে রেখে কাজ করা একান্ত উচিত।
# অনেক ভক্ত বিগ্রহ অর্চনায় বিশেষ উতসাহ বোধ করে থাকেন। একে বলে অর্চা বিগ্রহ। বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা আর পূজার নামে প্রথমটা তাদের খুব উতসাহ থাকে। কিন্তু পরে সেই বিগ্রহ হয়ে দাঁড়ায় গলগ্রহ। অনেক সময় বিগ্রহ আরাধনায় ত্রুটি হয়ে যেতে পারে। তাই অত্যন্ত সন্তর্পণে বিগ্রহ সেবা করতে হয়। গুরু সেবাতেও তেমনি সতর্কতার প্রয়োজন।
# প্রচার হচ্ছে ভগবানের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ সেবা। তা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এ মনোভাব বৃন্দাবনে সবার। গোপীগণ ও শ্রীমতি রাধারাণীর মনোভাব সেরকম। উচ্ছৈস্বরে ভগবানের মহিমা কীর্তন ও প্রচারের মাধ্যমে যে কেউ কষ্ণপ্রেমের সর্বোচ্ছ স্তর প্রাপ্ত হতে পারে।
# কখনই বৈষ্ণবের গুণ দেখা থেকে বিরত হওয়া উচিত নয়। এমন কিছু গুণও থাকতে পারে, যা কখনো কখনো ভাল নাও হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি বৈষ্ণব হন তাহলে তার দোষ দর্শন করা উচিত নয়। খারাপ গুণ বা দোষসমূহও পরিশোধিত হতে পারে। কেউ যখন শুধু দোষ দর্শনই করতে থাকে, কোন গুণ দর্শনই করে না সে তখন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠে। যা খুবই মারাত্মক।
# কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন মানব সমাজের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ আর্শীবাদ, কারণ তা মানুষকে ভগবদ্ভক্তি সম্পাদন করার মাধ্যমে সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের কথা চিন্তা করার শিক্ষাদান করছে।
# ভগবানের সঙ্গ লাভ করতে হলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানতে হয়। শ্রীকৃষ্ণকে জানার পন্থা হচ্ছে ভগবদ্ভক্তি।
# আমাদের চেতনাকে শ্রীকৃষ্ণভাবনাময় দর্শনতত্ত্বে পরিপূর্ণ করে তুলতে হবে এবং ভগবানের শুদ্ধভক্তদের কাজ থেকে তা শোনার চেয়ে আর ভাল পন্থা কী হতে পারে। সচরাচর আমাকে প্রবচন বা ভাষণ দিতেই হয়, কিন্তু যখনই আমি সুযোগ পাই কিছু শ্রবণ করার, আমি তখন অন্যান্য ভক্তদের আলোচনা বা পর্যালোচনা থেকে বিপুল উদ্দীপনা আর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে থাকি।
# গুরু কৃষ্ণের বিরহ অনুভূতি এত বাস্তব ও চমতকার, যার বিনিময়ে ভক্তরা লক্ষ কোটি ডলারও চান না।
# কৃষ্ণ সুখী হলে আমরা সুখী হব। তাই কিভাবে গুরু ও কৃষ্ণকে সুখী করা যায় সেটাই যদি লক্ষ্য হয়, তবে আমরা নিজেদের আধ্যাত্মিকভাবে অধিক সুখী অনুভব করব।
# আমাদের ভক্তি জীবনের উন্নতির জন্য ভগবান সবসময় বুদ্ধি প্রদান করেন। কিন্তু অনেকে আছেন যারা অন্য ভক্তদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, তারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করতে পারবে না।
# সব সময় স্মরণ রাখবেন যে, ভগবান কৃষ্ণ নামরূপে স্বয়ং অবস্থান করেন এবং আপনার জপ মানে কৃষ্ণের সান্নিধ্য কামনা করা। তাই হরিনামের প্রতি মনোযোগী ও নির্ভরশীল হতে চেষ্ঠা করুন অতি বিনীতভাবে হরিনামের নিকট প্রার্থনা করতে পারেন এবং আপনার আকাঙ্খাও ব্যক্ত করতে পারেন ঠিক যেমনটি আপনি বিগ্রহের সামনে করেন। তিনি (নামপ্রভু) আপনার আকাঙ্খা পূরণ করতে পারেন।
# জাগতিকভাবে সম্পদশালী হয়ে আমাদের কখনোই গর্ব করা উচিত নয়। সর্বোপরি যত শক্তিই থাকুক না কেন, মৃত্যুর হাত থেকে তা আমাদের রক্ষা করতে পারবে না।
# প্রতিটি মানুষেরই পারমার্থিক জ্ঞান সংগ্রহ করা একটি দায়িত্ব। এটি কাউকে জোর করে শেখানো যায় না অথবা কেউ এটি তার পক্ষ হয়ে করতে পারে না। প্রত্যেক মানুষকে তার নিজস্ব বুদ্ধি দিয়ে মানসিকভাবে পারমার্থিক জ্ঞান গ্রহণ করতে হয়।
# গুরুদেব যখন সশরীরে উপস্থিত থাকেন, তখন ভগবদ্ সেবা শিক্ষা নেওয়ার জন্য আদর্শ সুযোগ। কিন্তু যখন গুরুমহারাজ সশরীরে উপস্থিত থাকবে না তখন বিরহের মাধ্যমে সেবা করা যায়। অতএব এটি আদর্শ যে যখন আমাদের সুযোগ থাকে তখন আমাদের যতবেশী সম্ভব শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
# মন নিয়ন্ত্রনের সংক্ষিপ্ত উপায়ঃ নরোত্তম দাস ঠাকুর একটা সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা করেচিলেন। আমার মনকে দমন করা খুবই দুষ্কর। তাই নিত্যানন্দ প্রভু দয়া করে আমায় প্রেমের বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাও। তাহলে তোমার পাদপদ্মের প্রেমধারা আস্বাদনে আমি এতোই বিভোর হব যে আপনা হতেই আমার মন তোমাতে মগ্ন হবে। এই হচ্ছে ভক্তের সহজ পথ। যদি আমরা নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা লাভ করতে পারি তাহলে খুখ শীঘ্রই আমরা শুদ্ধ কৃষ্ণ প্রেমের ভাবোচ্ছ্বাস আস্বাদন করতে পারব। তখন মনকে সহজেই সংযত করা যাবে।
# কাউকে নিচে ঠেলে দিয়ে আমরা উপরে উঠতে পারি না। এভাবে উপরে উঠা যায় না। পারমার্থিক জগতে কৃষ্ণকে খুশি করার মাধ্যমে সকলেই উন্নীত হয়। যে যত বেশি কৃষ্ণকে খুশি করতে পারবে সে তত দ্রুত উন্নতি করবে। বরং আমরা যদি কাউকে উপরে তোলার চেষ্টা করি তবে কৃষ্ণ খুশি করে আমাদের উপরে তুলবেন।
No Comment! Be the first one.