# কৃষ্ণ যাকে ভালোবাসেন তাকে ভালোবাসুন : যদি আপনি কৃষ্ণকে ভালোবাসতে চান, তাহলে প্রথমেই তাকে ভালোবাসুন যাকে কৃষ্ণ ভালোবাসেন।
#বাস্তবিকই, এটা দেখা গেছে যে, লোকেরা জড় জাগতকভাবে সুন্দর হলেও জড় সৌন্দর্যের কিছু ত্রুটি রয়েছে। যা প্রকৃতপক্ষে নিষ্প্রভ বা উজ্জ্বলতাবিহীন। কিন্তু যখন কেউ ভক্তিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন প্রকৃত সৌন্দর্যবান হয়। যোগমায়ার আশ্রয় গ্রহণ করা মানেই কৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করা, কৃষ্ণের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।
# সঙ্গ অত্যন্ত শক্তিশালী। যখন ভক্তরা অনবরত কর্মীদের সঙ্গ করার ফলে কলুষিত হয়ে যায় তখন তারা বুঝতে পারে যে, সম্পূর্ণ কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার জন্য নিজেকে আরও শুদ্ধতা অর্জন করতে হবে।
# আমি তোমার সেবা করি আর তুমি আমার জন্য কি করছ ? দেখো, কৃষ্ণ মাঝে মাঝে তাঁর ভক্তের পরীক্ষা নেন। তুমি কি ভালোবেসে আমার সেবা করছ নাকি জড় বিষয় প্রাপ্তির জন্য আমার সেবা করছ।
# দেবতারা শরীরের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রক তাই মানুষ পাথর ব্যবহার করে ও দেবতার পূজা করে। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, ভক্তদের শুধু হরিনাম জপই যথেষ্ঠ। তা অনেক পাথর ব্যবহার করার চেয়েও অধিক শক্তিশালী।
# আগুনে মাখন জ্বাল দিতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই এর ময়লাগুলো উপরে উঠে আসবে। তাই আপনি যতই কৃষ্ণকৃপা বিতরণ করতে থাকবেন, কৃষ্ণ আপনাকে ততই পারমার্থিক বুদ্ধি প্রদান করবেন।
# শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, গুরুর অবর্তমানে শিষ্যকেই তাঁর উদ্দেশ্য পূরন করতে হয়। যখন গুরুদেব এই পৃথিবী থেকে অপ্রকট হন, তখন আমরাও তাঁর সাথে চলে যেতে চাই। গুরুদেবই যখন নেই, তখন কি হবে এই জীবন রেখে —–যিনি হচ্ছেন জীবন ও প্রাণস্বরূপ। তবে শিষ্যদেরও একটা দায়িত্ব রয়েছে, তাই তারা পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে পারে না। বরং গুরুর ইচ্ছাকে পূরণ করার প্রচেষ্টায় শিষ্যদের জীবনধারণ করে থাকতে হয়।
# শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর বলেছেন, শিষ্যসমাজের প্রাণবায়ু হল গুরুর আদেশ। মানুষ যেমন তার দেহ থেকে তার প্রাণবায়ু আলাদা করতে পারে না, শিষ্যও তেমনি তার জীবন থেকে গুরুদেবের আদেশ বাদ দিয়ে চলতে পারে না। শিষ্য যদি সেই মনোভাব নিয়ে তার গুরুদেবের উপদেশ মেনে চলে তবে সে সুনিশ্চিতভাবে সার্থকতা অর্জন করবে।
# কোন কিছু না থাকা মানে হচ্ছে একদম কিছু না থাকা নয়; বরং সবকিছুতে কৃষ্ণের কর্তৃত্ব উপলব্দি করা। এই জড় জগতের সবকিছুই কৃষ্ণ শক্তির প্রকাশ এবং কৃষ্ণ তার মালিক। তাই আমাদের কারো কিছু নেই। এটা বুঝতে পারা গভীর উপলব্ধির বিষয়।
# দীক্ষার সময় নাম পরিবর্তন করি, কিন্তু আমরা যদি আমাদের চেতনার পরিবর্তন না করি তাহলে কি লাভ ? আমাদের চেতনাকে শুদ্ধ করতে হবে। শ্রীমধ্বাগবতের শ্রীমদ্ভাগবতের প্রতিটি শ্লোকই আমাদের পাপময় চেতনার বিপ্লব ঘটানোর ক্ষমতা রাখে।
# ভক্ত জীবনের প্রধান বাধা হচ্ছে বিদ্বেষভাব বা ঈর্ষাপরায়ণতা।
# আমাদের মন, বাক্য ও কর্ম সবকিছুই কৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করা উচিত। তাই আমাদের সব কিছুই এমনভাবে করা উচিত যেন, আমরা কৃষ্ণের সেবা করছি। জপ, গ্রন্থ অধ্যয়ণ এবং বিধিনিয়ম পালন হচ্ছে আমাদের ভিত্তি। আমাদেরকে কৃষ্ণভাবনার জন্য সবধরণের ভক্তিমূলক সেবা করতে হবে।
# কর্মফল এবং স্বাধীন ইচ্ছা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কর্মফলের কারণে আমরা সুখ-দুঃখ ভোগ করি। আর স্বাধীন ইচ্ছার প্রভাবে আমরা কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই এবং কর্ম করি। স্বাধীন ইচ্ছা প্রকৃতির একটি মৌলিক গুণ।
# হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ, কৃষ্ণ সম্পর্কে শ্রবণ, কীর্তন ও অধ্যয়ন এবং গুরু-কৃষ্ণের সেবার মাধ্যমেই প্রকৃত জ্ঞান প্রকাশিত হয় এবং ধীরে ধীরে জড় জগতের প্রতি বৈরাগ্য আসে।
#কোন পূর্ণকর্ম যদি শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি সম্পাদন না করে, তাহলে সেটি আমাদের করা উচিত নয়।
# আমরা যদি শ্রীকৃষ্ণের সেবা করতে না চাই তাহলে তিনি আমাদের জড়া প্রকৃতির মধ্যে নিক্ষেপ করবেন। যেখানে আমরা জড় জগতের আইন অনুসারে সুখ ও দুঃখ ভোগ করার সুযোগ পাব। সে জন্যই সুখ অথবা দুঃখের জন্য আমরা শ্রীকৃষ্ণকে দায়ী করতে পারব না।
# তুমি তোমার সাধনা খুব ভালোভাবে সম্পাদন করতে পারো, কিন্তু এটি তোমাকে অবশ্যই অনুভব করতে হবে যে, গুরুদেবের কৃপা ছাড়া তুমি কিছুই করতে সক্ষম নও।
No Comment! Be the first one.