# মন এমনই বিশ্বাসঘাতক যে, গুরু পরম্পরা অনুসারে পূর্ববর্তী আচার্যদের অনুসরণের ব্যাপারে ভক্ত সতর্ক না হলে, মিথ্যা অহমিকার পরিণামে সে অনায়াসেই প্রবঞ্চিত হতে পারে। নিজেকে উত্তম ভক্ত মনে করার ফলে, সে শুদ্ধ ভক্তির মনোভাব হারিয়ে ফেলে এবং তারপর শুদ্ধ ভক্তদের প্রতি তার মানসিকতাও ক্রমে অপরাধমূলক হয়ে উঠতে পারে।
# আমাদের কি হতে পারে, আমরা তা জানি না। আমরা কর্ম চাই না। আমরা কর্ম অতিক্রম করে কৃষ্ণপ্রেম, কৃষ্ণভক্তি লাভ করতে চাই। যেমন আমি ভক্তদের বলি, দয়া করে তিলক ধারণ করুন। কারণ আমরা কর্মের নিয়ন্ত্রাণাধীন থাকতে চাই না। আমরা ভগবান কৃষ্ণের সুরক্ষায় থাকতে চাই।
# হরিনাম কীর্তন ও নৃত্যের সময় হাতে তালি দিলে আমাদের অনেক কর্মফল বিশেষ করে মন্দ কর্মফল নাশ হয়।
# এই যুগে পরমেশ্বর ভগবানের পবিত্র নামের মহিমা প্রচারে সব রকম জড়-বিষয়কে নিযুক্ত করে বাস্তবিক বৈরাগ্য সহজেই অর্জন করা যায় এবং মানব সমাজের সকলের প্রকৃত আনন্দময় চেতনার উন্নয়ন সাধন করে।
# কেন আমরা জেনে শুনে ভুল করি ? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে, এটাই হচ্ছে লালসা। পারমার্থিক জ্ঞানের দ্বারা লালসা কেটে ফেলতে হবে।
#শ্রীমদ্ভগবদগীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে পারমার্থিক শক্তি অর্জনের সঠিক দাওয়াই।
# জাগতিক অর্থ বা মানসিক কোন ব্যাপারে আমরা সুখী নাও হতে পারি, কিন্তু যদি সেটি সেত্যি কৃষ্ণকে সুখী করে, তখনই আমরা আধ্যাত্মিকভাবে সবচেয়ে সখী হতে পারি।
# বৈকুণ্ঠের বিমান হেলায় হারাবেন না। নিজেকে পবিত্র ভারতবাসী ভেবে আলস্য বা পারমার্থিক জীবনকে অবহেলা করা উচিত নয়।
# কাঁচা বাঁশ সহজে বাঁকানো যায়, কিন্তু পাঁকা বাঁশ বাঁকাতে গেলে ভেঙ্গে যায়, তেমনি ছোট বয়স থেকে কৃষ্ণকথা শ্রবণ ও কীর্তনের অভ্যাস করাতে পারলে শেষ বয়সে আপনা হতেই কৃষ্ণভাবনামৃত আস্বাদনের দিব্য রুচি সৃষ্টি হতে পারে।
# সাধুকে বিচার করতে গেলে দেখে বিচার করতে হয় না, তাঁর কথা শুনে জানতে হয় অর্থাত আসল স্বভাবকে জানতে হয়।
# অহংকার পতনের মূল। এই জড়জগতে মানুষ যখন সামান্য সম্পদ লাভ করে তখন সে খুবই গর্বিত হয়ে এবং অহংকারে মত্ত হয়ে সবকিছু করে কিন্তু সে ভুলে যায় যে এই জীবনটি ক্ষণস্থায়ী সর্বোপরি যত শক্তিই থাকুক না কেন, মৃত্যুর হাত থেকে তা আমাদের রক্ষা করতে পারে না।
# যদি কারও হৃদয়ের কলুষতা দেখিয়ে দিতে কেউ সহায়তা করে, তাহলে সে হচ্ছে তার শ্রেষ্ঠতম মিত্র কারণ, কৃষ্ণভাবনাময় মহামূল্য রত্নটিকে যে মায়া বা বিভ্রান্তিজাল বিনষ্ট কিংবা বিলুপ্ত করে দিতে পারে, তা থেকে তারা বন্ধুকে যে রক্ষা করে, তার চেয়ে বড় বন্ধু আর হয় না।
# ভক্ত প্রতিদিন অবশ্যই শ্রীমদ্ভাগবত আর ভগবদগীতা পাঠ করবে এবং পাঠ শুনবে। তবেই তার আত্মা পরিমার্জিত হবে এবং তবেই সে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে তার সম্পর্ক উপলব্ধি করতে পারবে, আর সেই সম্পর্ক অনুসারে সেবাকার্য সম্পন্ন করলে জীবন সার্থক হয়ে উঠবে।
# কৃষ্ণের আশ্রয়ে গেলে তিনি স্বয়ং ভক্তদের রক্ষা করেন। তাই আমাদের বেছে নিতে হবে আমরা মায়ার হাতে থাকব, নাকি শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয়ে থাকব।
# বাস্তব ভাবে আমাদের সর্বস্ব কৃষ্ণের কাছে সমর্পন করা উচিত, মৌখিকভাবে নয়। তিনি আমাদের বাস্তব পথের সন্ধান দিয়েছেন। যদি আমরা কৃষ্ণের নির্দেশ পালনি করি, তখন কৃষ্ণ বলেন, আমি তোমার জীবনের দায়িত্ব গ্রহণ করব। যদি তুমি সত্যিই আমার কাছে আত্মসমর্পন কর, তাহলে আমি তোমাকে সব ধরণের কর্মফল থেকে মুক্তি দিয়ে আমার ধামে নিয়ে যাব।
# যখন আমাদের মন এবং ইন্দ্রিয় দিয়ে কৃষ্ণকে সেবা করার ইচ্ছা জাগে, তখন আমাদের মনোভাব আর জাগতিক থাকে না। চুম্বকের মতো সূক্ষ্ম ও স্থুল দেহের অতীত অপ্রাকৃত বস্তুর দিকে আকর্ষিত হয়। কৃষ্ণসেবা আমাদেরকে অপ্রাকৃত জগতে ফিরে যেতে সাহায্য করে।
# যদি তুমি কাউকে ভালবাসো, সেও তোমাকে ভালবাসবে। যদি তুমি কারো প্রতি সদয় হও, সেও তোমার প্রতি সদয় হবে। যদি তুমি কাউকে মূল্যায়ণ কর, সেও তোমাকে মূল্যায়ণ করবে। যদি তুমি কারো প্রতি তোমার আত্মবিশ্বাস রাখো সেও তোমার প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখবে। যদি তুমি কাউকে তিরস্কার করো, সেও তোমাকে তিরস্কার করবে। যদি তুমি কাউকে তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী গুরু ও কৃষ্ণের সেবা করতে উতসাহিত করো, সেও তোমাকে উতসাহিত করবে। যদি তুমি কারো ক্ষতি করো, সে তোমার বেশি ক্ষতি করবে। যদি অন্য ভক্তদের দুঃখ দুর্দশাকালে উপরে উপরে বিনয় প্রদর্শন করো আর গোপনে আনন্দ লাভ করো। তাহলে সেও তোমার প্রতি তাই করবে।
# কেউ যদি মনে করে গুরু কোন সাধারণ ব্যক্তি বা মনে করে বৈষ্ণব কোন জাতের অন্তর্গত বা শ্রীবিগ্রহ পাথর, মার্বেল বা কাঠের ধাতু সেটা অত্যন্ত নারকীয় চেতনা।
No Comment! Be the first one.