# উপাধিই এই পৃথিবীকে বিভক্ত করছে। উপাধিই পৃথিবীর মানুষকে পক্ষপাতদুষ্ট করছে। উপাধিই বিশ্বে সব সমস্যার সৃষ্টি করছে। জড় উপাধি ত্যাগ করুন।
# গুরুদেবের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে তা ব্যক্ত করা গুরুসেবার একটি অংশ। এটি আংশিকভাবে গুরুঋণ শোধ করার একটি মাধ্যম, কারণ মহিমা কীর্তন এক ধরণের সেবা। আমরা কেবল সেবার মাধ্যমেই ঋণ শোধ করতে পারি।
# বর্তমান শরীরে যে কুকুর কিংবা শুকরের মতো আচরণ করে, সে অবশ্যই তার পরবর্তী জীবনে কুকুর অথবা শুকরের শরীর গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
# মনকে সর্বদা কৃষ্ণভাবনায় মগ্ন রাখাই মানব জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সিদ্ধি।
#মনে মনে কেউ ভাবতে পারে যে, সে শুদ্ধ ভক্ত আর তত্ত্বগতভাবে নিজের সম্পর্কে ভাবতে পারে যে, সে পূর্ণ আত্ম-সমর্পন করেছে, কিন্তু তার বিনয়-নম্রতা আর সহনশীলতার পরীক্ষা হবে, যখন সে ভক্ত-সান্নিধ্যে এসে সেবাকার্যে আত্মনিয়োগ করবে।
# একজন ভক্ত যখন তার কর্তব্যের কথা ভুলে যেতে শুরু করে, তখন ভগবান সেই ভক্তের কাছে গুরুদেবের মাধ্যমে বিভিন্ন স্মারক লিপি পাঠান।
# নিজের আচার আচরণ বিচার না করে অন্যের দোষ অন্বেষণের চেষ্টা কেন ? বৈষ্ণবের ক্রিয়ামুদ্রা বিজ্ঞে না বুঝয়। আপাতঃ দৃষ্টিতে যা প্রতীয়মান, তার দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। আপাত প্রতীয়মান দৃশ্যের উপর নির্ভর করার ফলে বহু মানুষ পাথরকে মুক্তা, সাপকে দড়ি, মন্দকে ভাল বলে ভুল করে মোহ বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে। নিজের দোষানুসন্ধানের চেষ্টা করো। জেনে রেখো তুমি যদি নিজের ক্ষতি না কর তাহলে অন্য কেউ তোমার ক্ষতি করতে পারবে না।
# নারী পুরুষ উভয়কে উপদেশ দেয়া হয়েছে, যেন তারা নির্জনে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে সম্পর্ক না স্থাপন করে, একজন পুরুষের এমনকি তার মা, বোন এবং কন্যার সঙ্গেও একাকি থাকা উচিত নয়।
# মায়ার কাজ হচ্ছে আমাদেরকে আবৃত করে রাখা, কৃষ্ণের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, তা ভুলিয়ে দেওয়া এটাই বদ্ধ অবস্থা কিন্তু তপস্যা, কৃচ্ছ্রসাধন ও যজ্ঞ এর মাধ্যমে মানুষ মায়াকে অতিক্রম করতে পারে।
# প্রচারের দ্বারা আমরা আমাদের অপরাধের ফলকে ভস্মীভূত করতে পারি। অন্যদের কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা দ্রুত কৃষ্ণের কৃপাদৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি এবং ভক্তিপথে দ্রুত অগ্রসর হতে পারি।
# অধিক ব্রত করলে হৃদয় সুদৃঢ় হয় এবং স্থিরতা লাভ হয়, এর ফলে হৃদয় কঠিন ও দৃঢ় হয়। কিন্তু ভক্তিজীবনে শ্রীকৃষ্ণকে ভালবাসতে হলে আমাদের কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়াই অধিক উত্তম।
# যার যে কুলেই জন্ম হোক না কেন যার যেমন গুরুই থাক না কেন, সে যদি শ্রী ভগবানের শুদ্ধ ভক্তের কৃপা লাভ করে তখন তার আর এই জাগতিক মায়াবদ্ধতা থাকে না সে তখন শুদ্ধ ভক্তির দ্বারা শ্রী ভগবানের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করে চিন্ময় স্থরে বিরাজ করে।
# রোগ-ব্যাধি, অর্থনৈতিক সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে তখনই যখন আমরা প্রকৃতির ক্ষতিসাধন করি। ফলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তাই প্রাণী হত্যাসহ সকল ধরণের প্রকৃতি বিরোধী কাজ হতে বিরত থাকতে হবে।
# সমুদ্রে পতিত মানুষকে কেউ যদি উদ্ধার করতে আসে তবে সেখানে পতিত হওয়ার কারণ বা কোন উদ্ধার করা হচ্ছে সে প্রশ্ন জিজ্ঞেস না করে জাহাজে উঠা উচিত। ঠিক তেমনি ভগবদ্ধাম হতে পতিত আমাদেরকে কেউ উদ্ধার করতে হলে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। আমাদের উচিত আগে উদ্ধার হওয়া যদি শুধু কারণ জানতে চাই তবে কখনো উদ্ধার সম্ভব নয়।
# গুরুদেব সকল সময় সশরীরে শিষ্যের কাছে উপস্থিত নাও থাকতে পারেন, তাই গুরুদেবের শারীরিক সেবা যত্নের সুযোগ সকল সময়ে পাওয়া না যেতেও পারে। সুতরাং শিষ্য যদি সকল সময়ে গুরুদেবের বাণী সেবাতে মনোনিবেশ করে থাকতে পারে, তাহলে সেটা গুরুদেবের বপু সেবার চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান বলে মনে করতে হবে। গুরুদেবের নির্দেশাবলী মেনে চলাটাই অবশ্য কর্তব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ।
No Comment! Be the first one.