আমরা সরাসরি ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করতে পারি না, গুরু গ্রহণ কেবল ভগব্দভক্তের কৃপার মাধ্যমেই ভগবানের সাক্ষাৎকার লাভ করা সম্ভব। আবার, বৈদিক শাস্ত্রে যেসকল জ্ঞান রয়েছে তা-ও আমাদের সীমিত মস্তিষ্কের দ্বারা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের তত্ত্বদ্রষ্টা সদ্গুরুর শরণাগত হতে হবে যিনি আমাদের শাস্ত্রের গূঢ় অর্থসমূহ হৃদয়ঙ্গম করতে সাহায্য করবেন। ঠিক যেমন গ্রন্থে অনেক বিদ্যা থাকলেও অভিজ্ঞ শিক্ষকের আনুগত্যে এ জ্ঞান অর্জন করতে হয়। কেবল পারমার্থিক জ্ঞান বা ভগবৎ-তত্ত্বজ্ঞান নয়; এ জগতের যেকোন জ্ঞান অর্জন করতে গেলেই আমাদের গুরু গ্রহণ করতে হয়।
আপনি যদি সঙ্গীত, নৃত্যকলা, অ্যাথলেটিকস্ কিংবা কারাতেও শিখতে চান, তখনও আপনি কোনো কোচের তত্ত্বাবধানে সেগুলোর শিক্ষালাভ করে থাকেন। এভাবে আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে শিক্ষাই গ্রহণ করি না কেন, আমরা কোনো না কোনো গুরু গ্রহণ করে থাকি।
এমনকি স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন এ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তিনি সান্দীপনি মুনিকে গুরুুরূপে বরণ করার মাধ্যমে গুরু গ্রহণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ভগবান শ্রীরামচন্দ্রও দৃষ্টান্ত প্রদর্শনের জন্য বশিষ্ঠ মুনিকে গুরুরূপে বরণ করেছিলেন। আবার, কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুও গুরু গ্রহণের গুরুত্ব স্থাপন করার জন্য ঈশ্বরপুরীর কাছ থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং সকল জ্ঞানের পরম উৎস পরমপুরুষ ভগবানও গুরু গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর জন্য স্বয়ং গুরু গ্রহণ করে থাকেন।
No Comment! Be the first one.