# ভক্তকে সন্তুষ্ট করতে পারলে কৃষ্ণ আরো বেশি সন্তুষ্ট হন। গুরুদেবকে সন্তুষ্ট করাটা হলো, কৃষ্ণকে আরো বেশী সুখী করার গোপন সূত্র।
# বিরক্তিকর কঠিন পরিস্থিতিগুলো এড়ানোর চেষ্টা করা আমাদের উচিত নয়। বরং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার চেষ্টা করা উচিত। কারণ মৃত্যুর সময় কৃষ্ণভাবনাময় থাকার জন্য এসব পরিস্থিতিই আমাদের প্রশিক্ষণ স্বরূপ।
# মন্দির কর্তৃপক্ষ হল শ্রীগুরুদেবের প্রতিনিধি, বিশেষ করে ভক্তদের কৃষ্ণভাবনাময় নিযুক্ত করার জন্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুদেবগণ যখন সারা বিশ্বে কৃষ্ণভাবনা প্রচার করছেন, তাঁদের পক্ষে প্রত্যেক শিষ্যকে ব্যক্তিগতভাবে ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত রাখা সম্ভব নয়। হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞ থাকেন সব রোগীদের দেখার জন্য। আর অনেক ডাক্তার, নার্স ইত্যাদি থাকে দিনের পর দিন রোগীদের শুশ্রুষার জন্য। তারা নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে থাকে। সেই রকমই মন্দির কর্তৃপক্ষকে ভক্তদের আধ্যাত্মিক পথ নির্দেশ দেওয়ার কিছু দায়িত্ব দেওয়া আছে।
# কৃষ্ণ বলেছেন-ভালো কর্ম এবং খারাপ কর্মের উর্দ্ধে একটি অপ্রাকৃত কর্ম আছে। সেটি হচ্ছে ভগবদ্ সেবা। এটি সনাতন। সবার মঙ্গলপ্রদ। এটিকে গাছের গোড়ায় জল দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা যায় অর্থাৎ এই ধরণের কর্মের মাধ্যমে সবকিছু সাধিত হয়ে যায়।
# কখনো উত্তেজিত নও তুমি, নিবিষ্ট থাকো সর্বদা মনের সর্বোত্তম অবস্থায়। ছুটোনা কখনো সম্মানের মোহে, লক্ষ্যে নিষ্ঠ থেকো সর্বদা। নষ্ট করো না সময়, ব্যস্ত থেকো শ্রীল প্রভুপাদের সেবায়। কখনো দোষ ধরোনা কারো, সর্বদাই ব্যস্ত থেকো ভগবানের গুণকীর্তনে। দয়া করে….. আমাদের ছেড়ে যেওনা, তুমিই একমাত্র আশা।
# ভক্তি জীবনের শুরুতে আমাদের অবশ্যই মদনমোহনের আরাধনা করা উচিত, যাতে আমরা ইন্দ্রিয় তৃপ্তির বাসনাশূন্য হতে পারি।
# যদি কেউ গুরুপরম্পরা ধারা যত্নের সাথে ধারণ ও পালন করে, তবে তাঁর পারমার্থিক জীবনের সব বাধা বিপত্তি দূর হয়।
# ভক্তের চরণধূলি, ভক্তের পদজল ও ভক্তের উচ্ছিষ্ট এই হচ্ছে পারমার্থিক উন্নতির জন্য শক্তিশালী পন্থা।
# যখন তোমার মন কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনে নিয়োজিত ভক্তমণ্ডলীর সঙ্গ ত্যাগ করার মতলব তোমাকে দেয়,, তখন তাকে অমান্য কর ! অপ্রাকৃত পারমার্থিক নির্দেশাবিলীর ঔষধির সাহায্যে মনকে পবিত্র করে তোল।
# যখন একজন ভক্ত মনে করে তিনি ইতিমধ্যেই একজন মহানভক্ত হয়েছেন, তাই তার সাবধানতা অবলম্বন করার দরকার নেই, তবে সেটি তার সবচেয়ে বড় বাধা।
# সাধারণভাবে মানুষ মনে করে যে এই জড় জগতেই সুখের অস্তিত্ব রয়েছে এবং ধর্ম পালনের মাধ্যমে আমরা কিছু পুণ্য, কিছু আশীর্বাদ লাভ করতে পারি এবং আরও জড় সুখ ভোগ করতে পারি। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রকাশ করলেন যে ভগবৎ প্রেমই সর্বোচ্চ সুখ। তা জড় সুখকে একেবারেই নিষ্প্রভ, অসার ও তুচ্ছ করে দেয়। একমাত্র মহৎ প্রাণ সাধুগনই শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবায় এই শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেমের ঝলকানি লাভের সাথে সাথে এর চিন্ময় সুখ লাভ করেন।
# কৃষ্ণভাবনামৃত হচ্ছে সেই পরম সত্য অনুসন্ধানের অপেক্ষাকৃত সোজা পথ। এই পশ্নটি পরম সত্য অনুসন্ধানের জন্য এতই উপযোগী যে, আমাদের লক্ষ লক্ষ বার জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবৃত্তিকে এড়িয়ে যায় এবং আমাদের এই উপলব্ধি প্রদান করে যে, আমরা শরীর নই, মন নই, পক্ষান্তরে আমরা হচ্ছি চিন্ময় শক্তি যা দ্বারা সমস্ত শরীর জীবন্ত থাকে।
# প্রত্যেক শিষ্যের উচিত শ্রীগুরুদেবের নির্দেশসমূহ যথার্থভাবে পালন করা। আর এসব নির্দেশই হলো মায়া অতিক্রম করে কৃষ্ণভাবনাময় থাকার উপায়।
# শাস্ত্র বলছে যে, শুদ্ধভক্তদের সেবা করার মাধ্যমে নিরভিমান ও বিনীত হওয়া যায়, আর এভাবেই সহজেই মিথ্যা অহংকার নাশ হয়ে যায়।
# যতদিন শিষ্য তার গুরুর আদেশ-নির্দেশাদি প্রতিপালন করে চলে, ততদিনই তাকে গুরুর অধীনে আশ্রিত বলে স্বীকার করা চলে। অনেক সময়, ভক্তরা তাদের গুরুদেবকে দন্ডবৎ প্রণিপাত জানায় ঠিকই কিন্তু গুরুদেবের নির্দেশাদি ঠিকমতো মেনে চলতে পারে না। তাই শ্রীল প্রভুপাদ বলতেন, ওহে ! কেবল দন্ডবৎ শিষ্য হয়েই থেকো না।
# যেকোন বাধাবিঘ্ন আসতে পারে, সেটা কোন ব্যাপার নয়-আপনাকে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে হবেই। মায়া, জড়া প্রকৃতি এবং জড় গুণসমূহ (সত্ত্ব, রজো ও তমো) যে কাউকে জপের বিপক্ষে বহুবিধ যুক্তি দেখাতে পারে। কিন্তু সেগুলির কোনটিই বাস্তব নয়। সবগুলোই ভ্রম মাত্র। সে যাই হোক, আমাদের জপ করতে হবে। এটাই আমাদের ভরসা।
# যদি ভক্তদের বিষয়ের প্রতি আসক্তি থাকে, তবে কৃষ্ণ তার সেই আসক্তিগুলোকে প্রথমে পূর্ণ করেন। এভাবে উচ্চতর গ্রহলোকে গিয়ে, দশ হাজার বছর ইন্দ্রিয়সুখ উপভোগ করে পুনরায় এ জগতে আরেকটি সুযোগের জন্য ফিরে আসে।
# “কৃষ্ণ আমি এই ছাত্রদের পড়াতে চাই, তাদের বন্ধু হতে চাই যাতে করে আমি তাদের তোমার কাছে নিয়ে আসতে পারি, কিন্তু তারা মারাত্মক। দয়া করে আমাকে পড়ানোর পাশাপাশি কিছু কৃষ্ণভাবনাও শেখাতে পারি।”
# এই জড় জগতে কোনো সুখ নেই, শুদ্ধ ভক্তরা, এটা জেনেই দৃঢ় চিত্তে কৃষ্ণভজনা করেন। খুব সতর্কতা ও পরিপূর্ন নিষ্ঠার সাথে জড় অবস্থা বৃদ্ধির প্রয়াস থেকে বিরত থাকতে হবে ।”
# যদি তুমি কৃষ্ণের শরণাপন্ন না হও এবং ভগবদ সেবার প্রতি মনোযোগী না হও তাহলে এই ব্রহ্মান্ডে আবদ্ধ থাকতে হবে। অতএব এটা আমাদের পছন্দের ব্যাপার আমরা কি কর্মের কঠিন আইনের অধীনে থাকব নাকি আমরা কৃষ্ণের শরণাপন্ন হবে
# কৃষ্ণ ভক্তদের আসক্তি থাকা উচিত নয়। কারণ সেই আসক্তির কারণে আবার পূর্ণজন্ম হয় যার ফলে গোলকধামে যাওয়ার পথে বাধা আসে যেমন পরবর্তী জন্মে সে সুযোগ নাও পেতে পারি।
No Comment! Be the first one.