যে সব শিবলিঙ্গ স্বয়ম্ভু আছেন- অর্থাৎ যাঁদের বিধিবদ্ধভাবে কেউই প্রতিষ্ঠা করেননি এবং যাঁরা অতি প্রাচীনকাল থেকে পূজিত এবং নিজেই স্বয়ং শিবলিঙ্গরূপে প্রকট হয়েছেন, সেইসব শিবলিঙ্গকে জ্যোতিলিঙ্গ বলা হয়।
১) শ্রীসোমনাথ– দ্বাদশ জ্যেতিলিঙ্গের অন্যতম আর বৃহত্তর শিবলিঙ্গ এই সোমনাথজী। কলকাতা থেকে যাত্রীদের সরাসরি সোমনাথ যেতে আমেদাবাদ থেকে সোমনাথ মেলে যাওয়াই সুবিধা।
২) শ্রীমল্লিকার্জুন– তামিলনাড়ুর শ্রীরঙ্গম থেকে অল্প দূরে মল্লিকার্জুন শিবমন্দির। শিব এখানে জলবেষ্টিত।
৩) শ্রীমহাকাল– উজ্জয়িনী শহরের দক্ষিণে শিপ্রা নদীর পাড়ে মহাকালের মন্দির। মটির নিচুতে মূল মন্দির স্বয়ম্ভু দেবতা মহাকালেশ্বর শিব আর তারই উপর ওঙ্কারেশ্বর শিব।
৪) শ্রীওঙ্কারেশ্বর– নর্মদা ও কাবেরীতে ঘেরা ওঙ্কাররূপী দ্বীপে এই মন্দিররাজি। দ্বীপের পূর্বদিকে ওঙ্কার পর্বতে স্বয়ম্ভু দেবতা শিব।
৫) শ্রীকেদারনাথ– দ্বাদশ জ্যোতিলিঙ্গের অন্যতম কেদারনাথ।
৬) শ্রীভীমাশঙ্কর– মহারাষ্ট্রের ভীম নদীর তীরে পশ্চিমঘাট পবর্তমালার উপর অবস্থিত।
৭) শ্রীবিশ্বেশ্বর– কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের শিবমূর্তি।
৮) শ্রীবৈজনাথ– যোগীন্দর নগর থেকে ২১ কি.মি. আর পালাম পুরের ১৬ কি.মি. দূরে প্রাচীন বৈজনাথ শিবের মন্দির।
৯) শ্রীনাগেশ্বর– গুজরাটের দ্বারকা থেকে ওখার পথে ১৭ কি.মি. গিয়ে শ্রীনাগেশ্বর মন্দির।
১০) শ্রীত্র্যম্বকেশ্বর– মহারাষ্ট্রের নাসিক রোড থেকে ৭ কি.মি. দূরে অবস্থিত পঞ্চচূড়োর ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দির। শিব-বিষ্ণু-ব্রহ্মার সমন্বয়ে দেবতা শিব।
১১) শ্রীরামেশ্বর– দ্বাদশ জ্যোতিলিঙ্গের অন্যতম শ্রীরামেশ্বর।
১২) শ্রীগৃষণেশ্বর– ঔরঙ্গাবাদ শহর থেকে ২৮ কি.মি. দূরে রয়েছে মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত ইলোরা গুহা। ঐ গুহা থেকে ১ কি.মি. দূরে গৃষনেশ্বর শিবমন্দির।
অন্যান্য প্রসিদ্ধ শিবলিঙ্গ সমূহঃ
১) পশুপতিনাথ (নেপাল),
২) সুন্দরেশ্বর (মাদুরা),
৩) কুম্ভেশ্বর (কুম্ভকোনম্),
৪) বৃহদীশ্বর (তাঞ্জোর),
৫) পক্ষীতীর্থ (চাঙ্গালপেট),
৬) মহাবালেশ্বর (পুনা),
৭) অমরনাথ (কাশ্মীর),
৮) বৈদ্যনাথ (কাংড়া),
৯) তারকেশ্বর (পশ্চিমবঙ্গ),
১০) ভুবনেশ্বর (ওড়িষ্যা),
১১) কণ্ডোরিয়া শিব (খাজুরাহো),
১২) একলিঙ্গ (উদয়পুর),
১৩) গৌরীশঙ্কর (জব্বলপুর),
১৪) হরীশ্বর (মানস সরোবার),
১৫) ব্যাসেশ্বর (বারাণসী),
১৬) মধ্যমেশ্বর (কাশী),
১৭) হাটকেশ্বর (বড়নগরু),
১৮) মুক্ত পরমেহর (অরুণাচল),
১৯) প্রতীগেশ্বর (ত্রৌঞ্চ পর্বত),
২০) কপালেশ্বর (ক্রৌঞ্চ পর্বত),
২১) কুমারেশ্বর (ক্রৌঞ্চ পর্বত),
২২) সর্বেশ্বর (চিতোর),
২৩) স্বম্ভেশ্বর (চিতোর জয়স্তম্ভ),
২৪) অজয় অমরেশ্বর (মহেন্দ্র পর্বত),
২৫) একাস্রনাথ (শিবকাঞ্চী),
২৬) জম্বুকেশ্বর (ত্রিচিনাপল্লী),
২৭) তেজলিঙ্গ (চিদাম্বরম্-বিল্লপরম্),
২৮) কালহস্তীশ্বর (অন্ধ্রের তিরুপতি মন্দিরের কাছে)।
দ্বাদশ প্রধান দেবীবিগ্রহঃ–
১) কামাক্ষী (কাঞ্চীপুরম),
২) ভ্রমরাম্ভা (ময়লগিরি),
৩) কুমারী (কন্যাকুমারী),
৪) অম্বাদেবী (গুজরাট),
৫) মহালক্ষ্মী (কোলাপুর),
৬) কালিকা (উজ্জয়িনী),
৭) ললিতাদেবী (প্রয়াগ),
৮) বিন্ধ্যবাসিনী (বিন্ধ্যপর্বত),
৯) বিশালাক্ষী (বারাণসী),
১০) মঙ্গলাবতী (গয়া),
১১) সুন্দরী (পশ্চিমবঙ্গ),
১২) গুহ্যকেশ্বরী (নেপাল)।
No Comment! Be the first one.