দামোদরং প্রপদ্যেহহং শ্রীরাধারমণং প্রভুম্।
প্রভাবাদযস্য তৎপ্রেষ্ঠঃ কার্তিকঃ সেবিতো ভবেৎ।।
“কার্তিকমাসের অধিষ্ঠাতৃদেব শ্রীরাধিকাসহ শ্রীদামোদরের প্রপন্ন হই। যাঁর প্রভাবে তাঁর প্রিয়তম মাস কার্তিক মাস সেবিত হবেন।”
সর্বান্তকরণে ইন্দ্রিয়সমূহ দ্বারা ইন্দ্রিয়াধিপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবাই ভক্তি। কীভাবে সময়ের সর্বোচ্চ উপযোগ করে ভগবানের সেবা করা যায় সেটাই দামোদর ব্রতের সংকল্প হওয়া উচিত। তবে সর্বাগ্রে মনে রাখা উচিত, নিয়মগুলো (সংকল্প) যেন লোকদেখানো বা শুধুই নিয়মমাত্র থেকে না যায়। ব্রতের সময়সীমা পর্যন্ত যেন সেগুলো পালনযোগ্য হয়, সেটাও বিবেচনা করতে হবে। ভগবান তাঁর ভক্তকে মুক্তি অথবা সবরকম জাগতিক সুখ প্রদান করতে পারেন। কিন্তু দামোদর ব্রত পালনকারী ভক্ত ভগবানের চরণে শুদ্ধভক্তি ছাড়া আর কিছু কামনা করেন না। এই ব্রতের বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কে হরিভক্তিবিলাসের ষোড়শ বিলাসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। দামোদর মাসের প্রথম দিনে মঙ্গলারতিতে যোগদান করে ভগবানের আরতি দর্শন করতে হয়। এরপর কোন নদী বা জলাশয়ে, অথবা তা না থাকলে শ্রীবিগ্রহ সমীপে আচমনপূর্বক সংকল্প করতে হবে। এরপর ভগবানের নিকট প্রার্থনা করে অর্ঘ প্রদান করতে হবে।
বিশেষতঃ এই পরম পবিত্র দামোদর ব্রত মথুরা মণ্ডলে উদ্যাপন করা বিধেয়। শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, কার্তিক মাসে মথুরায় শ্রীগোবিন্দের প্রীতি সর্বাধিক বর্ধিত হয়, তাই কার্তিক মাসে মথুরাতেই ভক্তির চরম ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়। কার্তিক মথুরাতে যমুনায় স্নান করে শ্রীদামোদরের পূজা করলে তারা কৃষ্ণসারূপ্যপ্রাপ্ত বলে জানতে হবে। আরো উল্লেখ আছে, শ্রীদামোদরদেব কার্তিকে মথুরামণ্ডলে মন্ত্র-দ্রব্যবিহীন বিধিবিহীন পূজাও স্বীকার করেন। কার্তিকমাসে মথুরাতে উপহাস ছলেও হরিপূজার মাধ্যমে দুর্লভ পদ প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহলে ভক্তিযুক্ত হয়ে শ্রদ্ধার সাথে পূজা করলে যে কী ফল পাওয়া যায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভক্তিরসামৃতসিন্দু গ্রন্থে শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেছেন, ঐকান্তিকভাবে আগ্রহী না হলেও কেউ যদি কার্তিক মাসে মথুরায় ভগবদ্ভক্তি অনুশীলন করেন, তাহলে তিনিও ভগবদ্ভক্তি লাভ করেন। ব্রতের সময় ভক্তদের কর্তব্য ভগবানের মন্দিরে বাস করা, এর মাধ্যমে মথুরায় ব্রত পালনের ফল লাভ করা যায়। গৃহে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহের সেবা-পূজা করা এবং সকলে মিলে হরিনাম সংকীর্তন করা। হরিভক্তিবিলাসে (১৬/৯২) দামোদর ব্রতের পাঁচটি অঙ্গের কথা বলা হয়েছে। যথা-
হরিজাগরণং প্রাতঃস্নানং তুলসীসেবনম্।
উদ্যাপনং দীপদানং ব্রতান্যেতানি কার্তিকে।।
রাত্রিশেষে হরি জাগরণ, প্রাতঃস্নান, তুলসীসেবন, দীপদান, শেষে উদযাপন উতসব কার্তিকে এই সকল ব্রত। সম্পূর্ণ কার্তিকমাসে ব্রতকারী এই পাঁচটি ব্রতের অঙ্গ পালনের মাধ্যমে শ্রীবিষ্ণুর সারূপ্য লাভ করেন।
No Comment! Be the first one.