প্রাতঃস্নান ও মঙ্গলারতিঃ
এই মাসে প্রতিদিন ব্রাহ্মমুহূর্তের পূর্বে গাত্রোত্থান করে স্নান ও মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করা উচিত। হরিভক্তিবিলাসে (১৬/৬২,৬৫) উল্লেখ আছে, কার্তিকমাসে ব্রাহ্মমুহূর্তে দামোদরের জাগরণের পূর্বে শয্যাত্যাগ করলে সহস্র গাভী দানের ফল লাভ হয়। আর জ্যৈষ্ঠমাসে সহস্র জলধেনু ও জলদানের ফল শুধু কার্তিকমাসে প্রাতঃস্নানে লাভ করা যায়। প্রাতঃকালে গীত-বাদ্যাদিসহ শ্রীশ্রীরাধা-দামোদরের মঙ্গল আরতি করতে হয়।
হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তনঃ
দামোদর মাসে প্রতিদিন নির্ধারিত সংখ্যামালার অতিরিক্ত (২৪,৩২,৪৮,৬৪ বা তদূর্দ্ধ) জপ করা উচিত এবং যতবেশি সম্ভব হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র সংকীর্তনে অংশগ্রহণ করা উচিত।
স্ত্রোত্রপাঠঃ
প্রতিদিন ‘দামোদর অষ্টকম্’ ‘জগন্নাথ অষ্টকম্’ ‘রাধা-কৃষ্ণ কৃপাকটাক্ষস্তোত্র’ প্রভৃতি নিজাভীষ্ট স্তোত্রাবলী পাঠ ও পূর্বতন আচার্যকৃত ভজন কীর্তন করা উচিত। এই মাসে শ্রীরাধা-দামোদরের অর্চন স্বরূপ ও আকর্ষণকারী সত্যব্রত মুনিকৃত দামোদর অষ্টকম্ বিশেষভাবে কীর্তন করা উচিত।
শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণঃ
দামোদর মাসে প্রতিদিন শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীমদ্ভগবদগীতাসহ অন্যান্য সদ্গ্রন্থাদি অধ্যয়ন ও শ্রবণ করা উচিত। বিশেষত, শ্রীহরির সহস্রনাম স্তোত্র এবং শ্রীমদ্ভাগবতের ৮ম স্কন্ধে বর্ণিত গজেন্দ্রমোক্ষণ লীলা পাঠ করা উচিত। “হে মুনে, যিনি কার্তিকে যত্নসহ নিত্য শ্রীমদ্ভাগবতের একটি শ্লোকও পাঠ করেন, তিনি অষ্টাদশপুরাণ পাঠের ফল পান।” হরিভক্তিবিলাস (১৬/৮১)
হবিষ্যান্ন গ্রহণঃ
দামোদর ব্রত পালনকারী হবিষ্যান্ন গ্রহণ করতে পারেন। আতপ চাল, মুগডাল, যব, তিল, মটর, কাওন, শ্যামা দানা, বেতোশাক, হেলেঞ্চা শাক, আদা, কলাশাক, মূলা, কন্দমূল (শাক আলু বা কেশর), কাঁকুড় (শসা জাতীয় ফল যেমন ফুটি বা বাঙ্গি), কলা, সৈন্ধব, দধি, ঘৃত, মাখন না তোলা দুধ, কাঁঠাল, আম, হরিতকী, পিপ্পল, জিরা, শুঁঠ, তেঁতুল, ক্রমুক, আতা, আমলকী, ইক্ষুজাত চিনি (গুড় ব্যতীত), মিছরি, অতৈলপক্ক ব্যঞ্জনাদি দ্রব্য- এ সমস্তই হবিষ্যান্ন।
অন্য নিয়মাবলিঃ
সসর্ব প্রকার আমিষ, মৎস্য, মাংস, মধু, কুলকর্কটী ফল, সরিষা এবং সমস্ত মাদকদ্রব্য পরিত্যাগ করবে। দ্বিদল অর্থাৎ ছোলা ডাল, তিল, তৈল, কাঁকরযুক্ত অন্ন, ভাবদুষ্ট-ক্রিয়াদুষ্ট-শব্দদুষ্ট দ্রবসকল পরিত্যাগ করবে। পরান্ন ভোজন, পরদ্রোহ, পরদার গমন পরিত্যাগ করবে। দামোদর মাসে দেবতা, বেদ, গুরু, গো, ব্রতী, স্ত্রীলোক, রাজা ও মহাজনের নিন্দা পরিত্যাগ করবে। জন্তুর অঙ্গোদ্ভুত চূর্ন, আমিষ ও ফলের মধ্যে জম্বীর অর্থাৎ গোঁড়ালেবু আমিষ। ধান্যের মধ্যে মসুরিকা এবং পর্যুসিত অন্ন আমিষ। ছাগী, গাভী ও মহিষ ব্যতীত অন্য দুগ্ধই আমিষ। ব্রাহ্মণের বিক্রিত সর্বপ্রাকর লবণ ও ভূমিজাত লবণ, তাম্রপাত্রস্থিত গব্য, চর্মস্থিত জল ও নিজের জন্য পাচিত অন্ন আমিষ। ব্রহ্মচর্য অর্থাৎ অমৈথুন, ভূমিশয্যা, পলাশ পত্রে ভোজন, একাহার দামোদর মাসে প্রশস্ত। রজস্বলা, ম্লেচ্ছ, পতিত, ব্রাত্য-ব্যক্তি, দ্বিজদ্বেষী, বেদবাহ্য- এ সকল ব্যক্তির সাথে আলাপ করবে না। এ সকল ব্যক্তির দৃষ্টি এবং কাকদৃষ্ট অন্ন, সূতকান্ন, দ্বিপাচিত অন্ন ও দগ্ধান্ন গ্রহণ করবে না। পেঁয়াজ, রসুন, মুস্তা, ছত্রাক, গাজর, নালিতা, কেমুক-নামক মূলা, শজনে-এ সকল পরিত্যাগ করবে। কার্তিকে বিশেষ করে বরবটি, শিম, কলমী শাক, পটোল, বেগুন, আচার বর্জনীয়।
No Comment! Be the first one.